...
...
Next Story

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলায় চিনের হাত ধরছে পাকিস্তান! গোপনে বসছে অত্যাধুনিক রাডার, HQ-19 নিয়েও জল্পনা

সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে পাকিস্তানের কয়েকটি এলাকায় চিনা রাডারের মতো দেখতে পরিকাঠামো ধরা পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, এগুলি চিনের SLC-12 অথবা SLC-14 সিরিজের রাডার হতে পারে। সেগুলি সত্যি পাকিস্তানে বসানো হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে HQ-19 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতি হতে পারে।

Published on: Nov 5, 2026, 15:03:34 IST
Advertisement

ভারতের সামরিক শক্তি মোকাবিলায় আরও এক ধাপ এগোতে চাইছে পাকিস্তান। এবার চিনের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থা HQ-19 হাতে পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের মাটিতে চিনা সংস্থা CETC-র তৈরি দূরপাল্লার রাডার বসানোর সম্ভাবনা ঘিরে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে পাকিস্তানের কয়েকটি এলাকায় চিনা রাডারের মতো দেখতে পরিকাঠামো ধরা পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, এগুলি চিনের SLC-12 অথবা SLC-14 সিরিজের রাডার হতে পারে। সেগুলি সত্যিই পাকিস্তানে বসানো হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে HQ-19 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তুতি হতে পারে। ভারতের জন্য বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকেরা।

ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে উদ্বেগ

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলায় চিনের হাত ধরছে পাকিস্তান
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলায় চিনের হাত ধরছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের এই আগ্রহের পিছনে ভারতের ক্রমবর্ধমান সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক শক্তিকে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিলাল খান। তাঁর মতে, ভারতের অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) পাকিস্তানের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই সাবমেরিনগুলির বিশেষত্ব হল, সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়েও পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়তে পারে। ফলে স্থলভাগে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আক্রমণের মুখে পড়লেও সমুদ্রের নীচে থাকা সাবমেরিন থেকে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় থাকে। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’।

পাকিস্তানের জাতীয় কমান্ড কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ কিদওয়াইও ভারতের এই সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিলাল খানের মতে, নিজেদের সমতুল্য পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করা পাকিস্তানের পক্ষে কঠিন। তাই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে ইসলামাবাদ।

কতটা শক্তিশালী চিনের HQ-19?

এতে রয়েছে উন্নত রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং বিশেষ ইন্টারসেপ্টর। চিনের HQ-19 ব্যবস্থায় টাইপ ৬১০এ অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডারের উল্লেখ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রে রেডার ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

পাকিস্তানে কোন রাডার বসছে?

পাকিস্তানের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সেখানে চিনের CETC সংস্থার তৈরি SLC-12 অথবা SLC-14 রাডার বসানো হতে পারে। এই রাডারগুলি দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত ও অনুসরণ করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। পাকিস্তানে দেখা যাওয়া রাডারগুলি ঠিক কোন মডেলের, তা এখনও নিশ্চিত নয়। এগুলির উপস্থিতি HQ-19 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনেরও চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। রাডারের পাশাপাশি ইন্টারসেপ্টর, লঞ্চার, কমান্ড ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন।

আগে থেকেই চিনের অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান

পাকিস্তানের হাতে ইতিমধ্যেই চিনের তৈরি HQ-9/P-সহ একাধিক দূরপাল্লার এবং মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে HQ-19-এর কাজ আলাদা। সাধারণ যুদ্ধবিমান বা ক্রুজ মিসাইলের পরিবর্তে অনেক উঁচু দিয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানোই এর বিশেষত্ব।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পাকিস্তান সরকারের একটি সমাজমাধ্যমের পোস্টে চিনের প্রস্তাবিত অস্ত্রের প্যাকেজে HQ-19, J-35AE স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং KJ-500E আকাশপথে নজরদারি বিমান থাকার কথা প্রকাশ পেয়েছিল। পরে পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। তবে তাতে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া বা অস্ত্র সরবরাহের প্রমাণ মেলেনি।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে উপগ্রহ চিত্রে রাডার দেখা যাওয়া আর পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। তাই ভারতের পক্ষে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks