ফের উত্তপ্ত পাকিস্তান। জেলে বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়লেন তাঁর দলের হাজার হাজার সমর্থক। খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হয়েছে দীর্ঘ পদযাত্রা। লক্ষ্য ইসলামাবাদ। প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রাজধানীতে পৌঁছতে চান পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই সমর্থকেরা। আর সেই মিছিল ঠেকাতে নেমে পড়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং ব্যাপক ধরপাকড়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইসলামাবাদমুখী বিশাল মিছিল

পিটিআইয়ের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার লাক্কি মারওয়াত থেকে মিছিল শুরু হয়। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার এগোতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সঙ্গে পিটিআই সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়িরও অভিযোগ উঠেছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইমরানের সমর্থকদের আটকাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল প্রশাসন। পাঞ্জাব প্রদেশে অভিযান চালিয়ে বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, এখনও পর্যন্ত তাদের অন্তত ২০০০ সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। রাস্তায় নামানো হয়েছে কন্টেনার, অনেক জায়গায় যান চলাচলও আটকে দেওয়া হয়েছে।
সেনাপ্রধানের বৈঠক ঘিরে জল্পনা
মিছিল শুরু হওয়ার আগের রাতেই সেনাপ্রধান আসিম মুনির বৈঠকে বসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসন এবং সেনার প্রস্তুতি কতটা কড়া ছিল, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। ইমরানপন্থীদের আশঙ্কা, ইসলামাবাদে পৌঁছনোর আগেই মিছিল থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এত বাধার পরেও পিছিয়ে যেতে নারাজ পিটিআই সমর্থকেরা। মিছিলে যোগ দেওয়া ২২ বছরের ওয়াসিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা জীবন নিয়েও ভাবছেন না। শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির যতই দমনপীড়ন চালান, তাঁরা পিছু হটবেন না। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, ইসলামাবাদ পৌঁছনো।
বাড়ছে ক্ষোভ
{{/usCountry}}তবে এত বাধার পরেও পিছিয়ে যেতে নারাজ পিটিআই সমর্থকেরা। মিছিলে যোগ দেওয়া ২২ বছরের ওয়াসিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা জীবন নিয়েও ভাবছেন না। শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির যতই দমনপীড়ন চালান, তাঁরা পিছু হটবেন না। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, ইসলামাবাদ পৌঁছনো।
বাড়ছে ক্ষোভ
{{/usCountry}}পিটিআইয়ের সমর্থকদের বক্তব্যে শুধু ইমরানের মুক্তির দাবি নেই, রয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভও। মিছিলে অংশ নেওয়া সিন্ধুর বাসিন্দা জাকির অভিযোগ করেন, শাহবাজ শরিফ সরকারের আমলে মূল্যবৃদ্ধি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খারাপ হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাই সরকার পরিবর্তনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইমরান এখনও জেলে
৭৩ বছরের ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় সাজাও হয়েছে। আল কাদির ট্রাস্ট মামলায় ১৪ বছর, নথি ফাঁস মামলায় ১০ বছর এবং তোষাখানা মামলায় তিন বছরের সাজা রয়েছে তাঁর।
ইমরানের স্ত্রী বুশরাও জেলে রয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর তিন বোন আলিমা, উজমা এবং নুরিনকেও হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইমরান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এই দমননীতি চালাচ্ছে শাহবাজ সরকার।
রাজপথে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা
ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এই দীর্ঘ মিছিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে সমর্থকদের ইসলামাবাদ পৌঁছনোর জেদ। ফলে মিছিল যত রাজধানীর দিকে এগোবে, সংঘর্ষের আশঙ্কাও তত বাড়তে পারে।
ইমরানকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সঙ্কট যে এখনও কাটেনি, এই পদযাত্রা তারই নতুন প্রমাণ। এখন নজর, হাজার হাজার সমর্থকের এই মিছিল শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদে পৌঁছতে পারে কি না, আর পৌঁছলে শাহবাজ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।