সদ্য কিছু মাস আগে, জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁওতে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে নতুন করে শীতলতার অধ্যায় উঠে আসে। এরপরই চলে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী ডেরা গুঁড়িয়ে দেওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতের সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পরবর্তী সময়েও দুই দেশে কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ কিছু টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। তারই মাঝে ,নেপালে সদ্য এক আয়োজনে আচমকাই এক অনুষ্ঠান মঞ্চে পাকিস্তানি শিল্পী তালহা অঞ্জুমের হাতে দেখা যায় ভারতের জাতীয় পতাকা। সেই পতাকা, তালহা শুধু হাতেই নেননি, তা কাঁধে রেখে তা দিয়ে দর্শকদের দিকে ‘ওয়েভ’ ও করতে দেখা যায় তালহাকে। যা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক পাকিস্তানে।

ভারতের জাতীয় পতকা হাতে মঞ্চে পাক শিল্পী অঞ্জুমের ওই ভিডিয়ো ক্লিপ এই মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁর কনসার্টের মাঝেই দর্শকদের মধ্যে থেকে ভারতের জাতীয় পতাকা তালহার দিকে এগিয়ে দেন কয়েকজন। সেই পতাকা হাতে নিয়ে তা তুলে ধরেন তালহা। এরপর তা নিয়ে ‘ওয়েভ’ ও করতে দেখা যায় তাঁকে। তারপর স্পষ্টভাবে মঞ্চে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন তালহা। গোটা ক্লিপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় পাকিস্তানে। এমনই দাবি পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ সহ একাধিক মিডিয়া হাউসের রিপোর্টে। ঘটনার সময় তিনি ‘কৌন তালহা’ পারফর্ম করছিলেন। এক পাকিস্তানি মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তালহা বলেন,' আমি কৌন তালহা পারফর্ম করছিলাম, তখনই এক ভারতীয় আমার হাতে ওই পতাকা তুলে দেন।' এরপর তিনি বলেন,'ওই পরিস্থিতির উত্তেজনায় আমি সেটি (পতাকা) তুলে নিই। আর আমাকে পতাকাটি খুব সম্মানজনকভাবে দেওয়া হয়।' তালহার মনে হয়েছিল, ওইভাবে তাঁকে পতাকা দেওয়ার ঘটনা, কোনও ভারতীয়ের তরফে তাঁর প্রতি সমর্থন প্রকাশ। তালহা বলছেন,'সেই পরিস্থিতিতে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি কত সেকেন্ড ধরে ভারতীয় পতাকা আমি ধরেছিলাম।'
তালহার ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানে বিতর্ক আরও বেশি বেড়ে যায় যখন এই ভাইরাল ক্লিপ কাণ্ডের পরও তালহা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন,' আমার মনে কোনও হিংসার জায়গা নেই, আমার মনে কোনও বর্ডার (সীমান্ত) নেই।' এরই সঙ্গে তাঁর বার্তা ছিল,'যদি আমি ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করলে বিতর্কের জন্ম হয়, তাহলে তাই হোক। আমি আবারও এটা করব... মিডিয়া, যুদ্ধ-প্ররোচক সরকার এবং তাদের প্রচারণার পরোয়া করব না। উর্দু র্যাপ সর্বদা সীমাহীন এবং তাই থাকবে।' তবে শরিফ, মুনিরদের দেশে এই নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই যদিও পাকিস্তানি মিডিয়ার ওই সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে তালহা ক্ষমা চেয়ে নেন। তাহলা বলেন,'আমার কোনও কাজের কারণে যাঁদের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে, আমি তাঁদের সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।' শেষমেশ এই বিতর্কের মাঝে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার ওই বার্তা উঠে আসে। ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে আইনি নোটিসও পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর।