বিগত কয়েক মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের উষ্ণতা গোটা কূটনৈতিক দুনিয়ার কাছে নতুন খবর নয়! এদিকে, সেই সৌদি আরবের সঙ্গে আবার আরব দুনিয়ারই অপরদেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতার মাঝেই, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দাবি, আরব আমিরশাহি, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্য নীরবে ভিসা নিষিদ্ধকরণ শুরু করেছে। এমনই দাবি, মিডিয়া রিপোর্টের। প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত এক চুক্তিতে হাত মেলাতেই আরব আমিরশাহির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে শীতলতা দেখা যায় বলে দাবি করছে বহু মহল। এপ্রিল মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত অপ্রত্যাশিতভাবে পাকিস্তানের কাছে আবুধাবির পাওনা ৩৫০ কোটি (প্রায় ৩৩,৪৭৪ কোটি) ডলার ফেরতও চেয়েছে।

পাকিস্তানি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দাবি, আমিরশাহিতে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের ভিসা নীরবে নিষিদ্ধ হতে শুরু করার ফলে, সেখানে আন্তর্জাতিক ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক তাঁরা করতে পারছেন না। এদিকে, নীরবে ভিসা নিষিদ্ধকরণের পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আমিরশাহি। আমিরশাহির দাবি, সব ক্যাটেগোরির ভিসা আবেদনই নির্দিষ্ট নিয়মে প্রক্রিয়াকরণ চলছে। দাবি মিডিয়া রিপোর্টের।
ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধকে সংশ্লিষ্ট মহল একটি 'গুরুতর চ্যালেঞ্জ' হিসেবে অভিহিত করেছে। আমিরাতের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বিপরীতে পাকিস্তানি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের দাবি, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাওয়ালপিন্ডি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শওকত জানান, দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবিতে যাদের দীর্ঘদিনের ও সুদৃঢ় ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে, এমন কয়েকজন পাকিস্তানি মালিকও ভিসা না পাওয়ার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; এর ফলে তাঁদের বিভিন্ন বৈঠক ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। পাকিস্তানের নুন নির্মাতা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইসমাইল সুত্তর বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের ওপর আরোপিত ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে বলে জানা গিয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে লিখিতভাবে ইউএই-র কাউন্সেল জেনারেলকেও চিঠি পাঠিয়েছিল করাচি চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তবে তার উত্তর আসেনি বলে দাবি করছে তারা। এদিকে, সামনেই দুবাইতে রয়েছে খাদ্য সংক্রান্ত এক প্রদর্শনী। তাতে অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে উৎকণ্ঠা।