ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করানোর চেষ্টায় আছে পাকিস্তান। আর এরই মাঝে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আমেরিকাকে কটাক্ষ করলেন। খাজা আসিফ বলেন, 'এখন তো মনে হচ্ছে যুদ্ধের আসল লক্ষ্যই বদলে গিয়েছে। এখন নজর শুধু হরমুজ প্রণালীর খোলার দিকে।' উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ খোলার জন্য দেশগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইরানের ওপর আমেরিকা হামলা করার পরে দাবি করেছিল, সেখানে শাসনব্যবস্থা বদল করাই তাদের আসল লক্ষ্য। এরপর থেকে একাধিকবার 'বিজয় ঘোষণা' করেছেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ থামেনি এখনও।
এদিকে যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এই আবহে ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর হামলা জারি রেখেছে তারা। এমনকী মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ওপরও হামলার চেষ্টা করে ইরান। এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এফ১৮ যুদ্ধবিমানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরান আমেরিকার কোনও বিমান ধ্বংস করতে পারেনি। আর ট্রাম্প বলেছেন, 'আমেরিকার খুব গুরুত্বপূর্ণ এক জিনিস ধ্বংস করতে ইরান ১০০টি মিসাইল পাঠিয়েছিল। তবে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থার সাহায্যে সেই সব মিসাইল প্রতিহত করেছে আমেরিকা।' তিনি মুখে 'গুরুত্বপূর্ণ সেই জিনিসের' নাম না নিলেও অনেকেই দাবি করছেন, ট্রাম্প হয়ত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের কথাই বলছেন।
এরই মাঝে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধুমাত্র সেই সব দেশের জাহাজ বা ট্যাঙ্কারকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে, যে দেশগুলিকে ইরান নিজেদের বন্ধু বলে মনে করছে। এই আবহে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫টি দেশের নাম নেন, যাদের জাহাজকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাড়ি দিতে দিচ্ছে। সেই পাঁচটি দেশ হল - ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক এবং পাকিস্তান। যদিও সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, একটি পাকিস্তানি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিল ইরান।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত থমকে আছে ইরান যুদ্ধের আবহে। এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে এই অঞ্চলে। তবে ভারতের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে পাড়ি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসতে ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভারতের। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে বিভিন্ন দেশের শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত থমকে আছে ইরান যুদ্ধের আবহে। এখনও পর্যন্ত ২০টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে এই অঞ্চলে। তবে ভারতের বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার নিরাপদে পাড়ি দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ে আসতে ইরানের সঙ্গে কথা হয়েছিল ভারতের। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে বিভিন্ন দেশের শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ।
{{/usCountry}}হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। পরে গত ১৮ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে একটি জাহাজে ফের হামলা চালিয়েছিল ইরান। এখনও পর্যন্ত ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।