একদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র। অন্য দিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম। ভৌগোলিক দূরত্ব কয়েক হাজার কিলোমিটার। কিন্তু দুই জায়গার ঘটনাকে ঘিরে একই প্রশ্ন সামনে—পাকিস্তানে তৈরি গোলাবারুদ কি খুবই নিম্নমানের? ইউক্রেনের এক আর্টিলারি কমান্ডারের বক্তব্য এবং চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মহড়ার সময় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনা, দু’টিই নতুন করে সেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ইউক্রেনের ৭তম আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ভিতালি কর্নিয়েঙ্কো সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁদের হাতে বিভিন্ন দেশের তৈরি ১৫৫ মিলিমিটার গোলা আসে। পশ্চিম ইউরোপের তৈরি গোলাগুলি নিয়ে তিনি তুলনামূলক ভাবে সন্তুষ্ট হলেও, একটি 'এশীয় দেশের' গোলাবারুদ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, কিছু গোলার মানের মধ্যে এতটাই পার্থক্য থাকে যে প্রতিটি ব্যাচ ওজন করে আলাদা ব্যালিস্টিক তথ্য ব্যবহার করতে হয়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গোলা ব্যবহারের পর কামানের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ব্যারেল ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। ওই ইউক্রেনীয় কমান্ডার তাঁর সাক্ষাৎকারে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম বলেননি। পরে সামাজিক মাধ্যমে ওই অজ্ঞাত ‘এশীয়’ নির্মাতাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পাকিস্তান ১৫৫ মিলিমিটার এম-১০৭ ধরনের আর্টিলারি গোলা তৈরি করে এবং ইউক্রেনে পাকিস্তানি গোলাবারুদ যাওয়ার বিষয়ে অতীতে নানা রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে।
এ বার নজর চট্টগ্রামের দিকে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের হাটহাজারি ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর মহড়ার সময় একটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছোড়ার সময়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। বাংলাদেশের আইএসপিআর জানিয়েছিল, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
{{/usCountry}}এ বার নজর চট্টগ্রামের দিকে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের হাটহাজারি ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর মহড়ার সময় একটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছোড়ার সময়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। বাংলাদেশের আইএসপিআর জানিয়েছিল, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
{{/usCountry}}এর পরেই সামনে আসে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরিত ট্যাঙ্কটি ছিল চিনা নির্মিত টাইপ-৫৯জি ‘দুর্জয়’ এবং এতে ব্যবহৃত ১২৫ মিলিমিটার এইচই-এফএস-টিকে গোলা পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি। কিছু সামরিক সূত্র ও প্রতিরক্ষা-বিষয়ক প্রতিবেদনে গোলার গুণমান নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টিও এখনও তদন্তাধীন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারি ভাবে বলেনি যে পাকিস্তানি গোলাবারুদের ত্রুটিই বিস্ফোরণের কারণ। বরং আইএসপিআরের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তবু দু’টি ঘটনা একসঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন নিয়ে প্রশ্নকে ফের সামনে এনেছে। ইউক্রেনে 'অজ্ঞাত এশীয় দেশের' গোলার মান নিয়ে অভিযোগ, চট্টগ্রামে পাকিস্তানি ১২৫ মিলিমিটার গোলা ঘিরে সন্দেহ—সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ইউক্রেন, পাকিস্তানের মুখ পুড়ছে তাদের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির জন্য?