...
...
Next Story

Pak Hangor Submarine in BoB: বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের ‘হাঙর’, জল্পনা বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে, ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?

পাকিস্তান শুধু আরব সাগরে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পাকিস্তান ওই অঞ্চলে সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবছে।

Published on: Jun 19, 2026, 11:15:00 IST
Advertisement

পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে নতুন হাঙর (Hangor) শ্রেণির সাবমেরিন যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান শুধু আরব সাগরে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পাকিস্তান ওই অঞ্চলে সক্রিয় হওয়ার কথা ভাবছে।

কী এই হাঙর সাবমেরিন?

বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান (প্রতীকী ছবি) (AFP)
বঙ্গোপসাগরেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান (প্রতীকী ছবি) (AFP)

হাঙর শ্রেণির সাবমেরিনগুলি চিনের প্রযুক্তিতে তৈরি। পাকিস্তান ২০১৫ সালে চিনের সঙ্গে চুক্তি করে মোট ৮টি সাবমেরিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেয়। এর মধ্যে কিছু চীনে তৈরি হচ্ছে, আর কিছু পাকিস্তানের করাচি শিপইয়ার্ডে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে। এই সাবমেরিনগুলির সবচেয়ে বড় শক্তি হল এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশান প্রযুক্তি। সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে মাঝেমধ্যে জলের উপর উঠে আসতে হয় বা ‘স্নরকেল’ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু AIP প্রযুক্তির ফলে হ্যাঙ্গর সাবমেরিন টানা কয়েক সপ্তাহ জলের তলায় লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা নজরদারি এড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত অভিযান চালানো সম্ভব।

কেন বঙ্গোপসাগর গুরুত্বপূর্ণ?

বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের প্রভাবাধীন সামুদ্রিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ভারতের পূর্ব উপকূল, গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি, আন্দামান-নিকোবর অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত। পাকিস্তান যদি এখানে নিয়মিত সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারে, তাহলে ভারতের নৌবাহিনীকে আরও বেশি নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সংখ্যায় কম হলেও আধুনিক ও গোপনে চলাচল করতে সক্ষম সাবমেরিন শত্রুর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে কেন জল্পনা?

ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ১৬টি প্রচলিত সাবমেরিন এবং পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন রয়েছে। সংখ্যার বিচারে ভারত এখনও অনেক এগিয়ে। তবে একটি সমস্যা রয়েছে—ভারতের বেশিরভাগ প্রচলিত সাবমেরিনে এখনও AIP প্রযুক্তি চালু হয়নি। ভারতের কালভারি শ্রেণির সাবমেরিনে দেশীয় AIP প্রযুক্তি সংযোজনের কাজ চলছে। প্রথম আপগ্রেডেড সাবমেরিন ২০২৬ সালের শেষের দিকে প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি

পাকিস্তানের নতুন সক্ষমতার মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যেই কয়েকটি ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে—

দীর্ঘপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি বিমান P-8I ব্যবহার।

সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য উন্নত সোনার নেটওয়ার্ক।

অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW) হেলিকপ্টার ও যুদ্ধজাহাজ।

প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার Project 75(I) প্রকল্পের মাধ্যমে ৬টি আধুনিক সাবমেরিন নির্মাণ।

চিনের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যাঙ্গর প্রকল্প শুধু পাকিস্তানের নয়, এর পিছনে রয়েছে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা। ফলে ভারতের কাছে বিষয়টি শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভারত-চীন-পাকিস্তান ত্রিভুজের সামুদ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তান কি সত্যিই বঙ্গোপসাগরে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটি সহজ হবে না। সাবমেরিনকে নিয়মিত জ্বালানি, রসদ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। নিজের ঘাঁটি থেকে এত দূরে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন করা পাকিস্তানের জন্য কঠিন। তাই আপাতত নিয়মিত টহল বা প্রতীকী উপস্থিতির সম্ভাবনাই বেশি।

পাকিস্তানের নতুন হাঙর শ্রেণির সাবমেরিন নিঃসন্দেহে তাদের নৌক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতির ইঙ্গিত ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে এতে শক্তির ভারসাম্য রাতারাতি বদলে যাচ্ছে না। ভারতের নৌবাহিনী এখনও অনেক বড়, শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিগতভাবে সুসংগঠিত। তবুও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য সতর্কবার্তা—আগামী দিনে বঙ্গোপসাগরেও সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe