...
...
Next Story

Pakistani Hindus abducted: পাকিস্তানের আদালতের বাইরে কান্নায় দুই অপহৃত হিন্দু নাবালিকা, ‘দয়া করে আমাদের বাড়ি যেতে দিন’

পাকিস্তানি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ভীনগাস একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। সেখানে ২ নাবালিকাকে আদালতের বাইরে হাতজোড় করে কাঁদতে দেখা যায়। তারা বারবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থায় তাঁদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Published on: Sep 11, 2026, 12:59:19 IST
Advertisement

পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে ফের হিন্দু নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল। আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ল দুই হিন্দু কিশোরী। সম্পর্কে তারা দুই বোন। অভিযোগ, ১৩ ও ১৪ বছরের সীতা এবং রূপী নামে ওই দুই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল দুই বোন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আদালতের বাইরে হাতজোড় করে আকুতি

পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে ফের হিন্দু নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল
পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে ফের হিন্দু নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠল

পাকিস্তানি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ভীনগাস একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছেন। সেখানে দুই নাবালিকাকে আদালতের বাইরে হাতজোড় করে কাঁদতে দেখা যায়। তারা বারবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছে। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থায় তাঁদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুই কিশোরী কাচ্চি কোলহি জনজাতির। তাঁদের পরিবারের দাবি, নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁদের ধর্মান্তরিত করা হয় এবং আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁরা বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিল।

কিন্তু আদালত তাঁদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এর পরেই আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই বোন। পুরো ঘটনাটি ঘিরে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

১০ দিনে ছ’জন হিন্দু কিশোরী?

ভীনগাসের আরও একটি দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ৯ সেপ্টেম্বর টান্ডো আল্লাহইয়ার এলাকা থেকে প্যানসি কোহলি নামে ১৪ বছরের আরও এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গত ১০ দিনের মধ্যে সিন্ধু প্রদেশে অন্তত ছ’জন হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের হিন্দু জনসংখ্যার বড় অংশের বাস সিন্ধু প্রদেশে। বহু বছর ধরেই এই এলাকায় হিন্দু কিশোরী ও তরুণীদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিয়ের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে কোল, ভিল এবং মেঘওয়ারের মতো প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেয়েরাই বেশি ঝুঁকিতে বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারগুলি অনেক সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্থানীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। পুলিশে অভিযোগ দায়ের থেকে শুরু করে আদালতে আইনি লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা সমস্যার মুখে পড়েন। ফলে বহু পরিবার ভয় বা চাপের কারণে ন্যায়বিচারের লড়াই থেকেও সরে যেতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির উদ্বেগ

হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে হিন্দু তরুণীদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হয়রানির মতো ঘটনাও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সংখ্যালঘু অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে পুলিশ এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও দ্রুত বা কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায় না।

বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল দুই বোন

সিন্ধুর আদালতের বাইরে দুই নাবালিকার কান্নার ছবি তাই শুধু একটি পরিবারের বেদনার ছবি নয়। তা পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনি সুরক্ষা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

দুই কিশোরীর হাতে হাতজোড় করে করা সেই আবেদন—‘দয়া করে আমাদের বাড়ি যেতে দিন’—এখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশে আপাতত বাবা-মায়ের কাছে নয়, সরকারি হোমেই থাকতে হবে তাদের। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, নিজেদের ইচ্ছায় জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার কবে নিশ্চিত হবে পাকিস্তানের এই সংখ্যালঘু কিশোরীদের?

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks