সদ্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চের এক নির্দেশে ইমরান খানের পরিবারের ১২ সদস্যকে জেলবন্দি প্রাক্তন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে। এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খান দাবি করছেন, সম্ভবত জেলবন্দি পাকিস্তানি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আর জীবিত নেই!
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে আদিয়ালা জেলে বহু মাস ধরে বন্দি প্রাক্তন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বহু সময়ই ইমরানের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। আদিয়ালা জেল যেখানে অবস্থিত পাকিস্তানের সেই রাওয়ালপিন্ডিতেই রয়েছে পাকিস্তানি সেনার হেডকোয়ার্টার। যে সেনার প্রধান আসিম মুনির। শেহবাজ শরিফ শাসিত পাকিস্তানের ক্ষমতার অলিন্দে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন মুনির।
এদিকে, আমেরিকায় অবস্থিত পাকিস্তানি সাংবাদিক ওজাহাত সইদ খান দাবি করছেন,'তিন সিনিয়র সেনা সূত্র জানিয়েছে, ইমরান খান আর আমাদের সাথে নেই।' তবে তিনি সূত্রদের দাবিকে নিশ্চিত করতে পারেননি। ওই সাংবাদিকের দাবি, তিনি কিছু জানা শোনা সূত্র ধরে তিনি এই তথ্য হাতে পেয়েছেন।
গত ২০২৩ থেকে পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন ইমরান। সেখানে থাকতে থাকতে তাঁর চোখের অবস্থা নিয়েও ইমরানের পরিবার প্রশ্ন তুলেছিল। ইমরানের পরিবার বারবার প্রশ্ন তুলেছে, জেলের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গে। পাকিস্তানের তেহরিক-এ-ইনসাফ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান যে শুধু সেদেশের রাজনৈতিক চরিত্র তা নয়। পাকিস্তানকে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের ট্রফিও এনে দিয়েছিলেন দলের অধিনায়ক হিসাবে।ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ইমরান খান, একটা সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর গদিও সামলেছেন। এই পাকিস্তানের বর্তমান সেনা প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইমরানের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না বলে জানা যায়। বেশ কিছু রিপোর্ট দাবি করেছে, ২০১৯ থেকেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালে, মুনির, ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এই বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি, যার ফলস্বরূপ তিনি মুনিরকে আইএসআই-এর মহাপরিচালক পদ থেকে অপসারণ করেন। চার বছর পর, ২০২৩ সালে, পিটিআই প্রধান এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করে সেগুলোকে 'মিথ্যা' বলে আখ্যা দেন। এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একটি পোস্টে খান লেখেন , 'এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জেনারেল আসিম আমাকে আমার স্ত্রীর দুর্নীতির কোনো প্রমাণ দেখাননি, আর সেই কারণে আমিও তাকে পদত্যাগ করাইনি।' পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে, খান জাতীয় পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ভোটে হেরে যান ইমরান। পরে দুর্নীতির অভিযোগে, ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা জেলে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান বন্দি হন।