ইরান যুদ্ধের মাঝে বড়সড় কূটনৈতিক প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান। একদিকে, ইরান হল পাকিস্তানের প্রতিবেশী। এদিকে, ইরানে হামলা করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল, এই ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো না থাকলেও, ট্রাম্পের আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের নয়া সখ্যতা সকলের বিদিত! ওদিকে আবার, ইরান হামলা করেছে সৌদি আরবের বহু জায়গায়। এই সৌদি আরবের সঙ্গে আবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষ চুক্তি অনুযায়ী কোনও তৃতীয় দেশ, পাকিস্তান বা সৌদির মধ্যে কোনও একটিতে হামলা করলে, তা অপর দেশটির ওপর হামলার শামিল বলে বিবেচিত হবে। এমন সমস্ত জটিল কূটনৈতিক অবস্থার মাঝে সদ্য বহু মিডিয়া রিপোর্ট দাবি করেছে, পাকিস্তানের সেনার নয়া সিডিএফ আসিম মুনির নাকি, এক ধর্মীয় নেতা তথা মৌলবীদের সভায়, সুর চড়িয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্য করেছেন। তাতেই ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ভূক্তদ মৌলবীদের অনেকে।

একাধিক মিডিয়া রিপোর্টের দাবি, সদ্য পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে এক ইফতার পার্টিতে শিয়া মৌলবীদের উদ্দেশে পাকিস্তানের সেনা চিফ আসিম মুনির বলেছেন, 'যদি ইরানকেই ভালোবাসেন তাহলে ইরানে চলে যান।' এরপর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছেন পাকিস্তানের একাধিক শিয়া মৌলবী। পাকিস্তানের শিয়া মৌলবীদের অভিযোগ, আমেরিকা, ইজরায়েলের হয়ে কাজ করে, পাকিস্তানের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছেন মুনির।
শিয়া উলেমা কাউন্সিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল্লামা সৈয়দ সিবতাইন হায়দার সবজওয়ারী মুনিরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'যদি আপনি আপনার প্রভু, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে এতই ভালোবাসেন, তাহলে পাকিস্তান ছেড়ে বেরিয়ে যান।'
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইজরায়েলি আগ্রাসন এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের পর মুনির তাদের এই সতর্কবার্তা দেন। চলতি মাসের শুরুতে, পাকিস্তানের রাচি, স্কার্দু এবং ইসলামাবাদে খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদী মানুষের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে অন্তত ৩৫ জন নিহত হন। আপাতত পাকিস্তানের অন্দরেই মুনিরের ওই মন্তব্যের পর থেকে সেদেশে ক্ষোভে ফুঁসছেন বহু মানুষ। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য এমন এক দিনে করা হয়েছে, যেদিন পাকিস্তান উপসাগর জুড়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানাতে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর একটি জোটে যোগ দেয়,এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরিবর্তিত কূটনৈতিক অবস্থানকেই তুলে ধরে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানের কূটনৈতিক এমন জটিল অবস্থার মাঝেই সেদেশে জ্বালানি সংকট তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে তাদের দেশে পিএসএল টি২০ লিগের আয়োজন নিয়েও মাথাব্যাথা বেড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
{{/usCountry}}এদিকে, ইরান যুদ্ধের জেরে পাকিস্তানের কূটনৈতিক এমন জটিল অবস্থার মাঝেই সেদেশে জ্বালানি সংকট তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে তাদের দেশে পিএসএল টি২০ লিগের আয়োজন নিয়েও মাথাব্যাথা বেড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
{{/usCountry}}