বেঙ্গালুরুর পরে এ বার উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। ফের দেশের অন্দরে ধরা পড়ল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই-এর জাল। ভারতীয় সেনার গোপন গতিবিধি এবং কী কী অস্ত্রশস্ত্র কোথায় কোথায় যাচ্ছে, তার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর ধৃতদের মধ্যে তিন সন্দেহভাজনকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ।

এই চক্রের মূল কাজ ছিল দেশের সংবেদনশীল স্থানগুলোর ছবি, ভিডিও এবং জিপিএস লোকেশন সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠানো। তারা সোলার-পাওয়ার্ড, সিম-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা বিভিন্ন রেলস্টেশন, সেনা এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগিয়ে দিত। এরমধ্যে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট, সোনিপত এবং অন্যান্য স্থানের নাম উঠে এসেছে। এই নেটওয়ার্কের মাস্টারমাইন্ডদের মধ্যে বিহারের নওশাদ আলি অন্যতম, যাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে। নওশাদকে জিজ্ঞাসাবাদকে করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাকে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বিখ্যাত মন্দিরের ভিডিও এবং জিপিএস লোকেশন সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সরফরাজের নির্দেশে সংবেদনশীল স্থানগুলোর ভিডিও, ছবি ও লোকেশন সংগ্রহ করে ইসলামাবাদে পাঠাত। তাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশ করে সেখানকার কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালানো এবং ভিডিও পাঠানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত একজন বিশিষ্ট শিল্পপতির বাড়িতে নজরদারি চালানোর কথাও স্বীকার করেছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নওশাদ আলি এর আগে সেনাবাহিনীর ঘাঁটি, রেল স্টেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকি করেছিল। নওশাদ সহযোগীদের কাছ থেকে ভিডিও, ছবি এবং লোকেশন সংগ্রহ করে একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠাতো। জানা গেছে, গুপ্তচরবৃত্তির জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছিল এবং তার পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সরফরাজ তাকে এটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। একটি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমেই নওশাদের সঙ্গে মীরা নামে এক মহিলার পরিচয় হয়, যে আগে থেকেই একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নেটওয়ার্কের দায়িত্বে সুহেল, নওশাদ ও সমীর
তদন্তে জানা গেছে যে, দিল্লির বাসিন্দা সুহেল মালিক, মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা নওশাদ আলি এবং ভাগলপুরের বাসিন্দা সমীর ওরফে ‘শুটার’ হল এই তথ্যপাচার চক্রের মাথা। সরফরাজের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠে এবং দেশের সংবেদনশীল স্থানগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গে মীরার যোগসূত্র ছিল। ২০১৫ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মীরা-সহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। মীরার ফোন থেকে ১০০টিরও বেশি জায়গার ভিডিও এবং ছবিও পাওয়া যায়। সুহেলের মতো নওশাদও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ যুবকদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা এবং অন্যান্য রাজ্যে রেকি করার সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ নওশাদের বান্ধবীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যিনি গুরুগ্রামে থাকেন।
হাওয়ালা নেটওয়ার্ক
{{/usCountry}}তদন্তে জানা গেছে যে, দিল্লির বাসিন্দা সুহেল মালিক, মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা নওশাদ আলি এবং ভাগলপুরের বাসিন্দা সমীর ওরফে ‘শুটার’ হল এই তথ্যপাচার চক্রের মাথা। সরফরাজের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠে এবং দেশের সংবেদনশীল স্থানগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গে মীরার যোগসূত্র ছিল। ২০১৫ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল মীরা-সহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। মীরার ফোন থেকে ১০০টিরও বেশি জায়গার ভিডিও এবং ছবিও পাওয়া যায়। সুহেলের মতো নওশাদও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ যুবকদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা এবং অন্যান্য রাজ্যে রেকি করার সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ নওশাদের বান্ধবীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যিনি গুরুগ্রামে থাকেন।
হাওয়ালা নেটওয়ার্ক
{{/usCountry}}পাকিস্তানের হয়ে কাজ করা গুপ্তচরদের একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করার পর পুলিশ এখন হাওয়ালা নেটওয়ার্কটির সন্ধান করছে। পুলিশের একটি দল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল পাণ্ডা, পাকিস্তানের এক সর্দার, যে পাঞ্জাবের মাধ্যমে হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গুপ্তচরদের কাছে টাকা পাঠাত। অভিযুক্তরা তাদের সহযোগী, দোকানদার এবং মানি ট্রান্সফার সেন্টারের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করত এবং পরে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করত। পুলিশ সূত্র খবর, পাঞ্জাবের হাওয়ালা নেটওয়ার্ক উন্মোচন করতে হলে পুলিশকে সেইসব অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যেগুলোতে হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা জমা করা হয়েছিল। এই লক্ষ্যে, পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের বলা উল্লিখিত দোকান, সহযোগী এবং মানি ট্রান্সফার সেন্টারগুলো শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।