দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে গ্রেপ্তার ৬ জন। জানা গিয়েছে, পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে গাজিয়াবাদ পুলিশ বৃহস্পতিবার মাসুরির নাহাল গ্রাম থেকে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধরতরা হল- শাভেজ ওরফে জিহাদি (বয়স ২০ বছর), মহম্মদ জুনায়েদ (বয়স ২৩ বছর), মহম্মদ ফারদিন (বয়স ২২ বছর), ইকরাম আলি (বয়স ৩৬ বছর), ফজরু দাফেদার (বয়স ৪৬ বছর) এবং মহম্মদ জাভেদ (বয়স ৪৫ বছর)। ছয়জনই রাজাপুর ব্লকের অন্তর্গত নাহাল গ্রামের বাসিন্দা।

বিএনএসের ধারা নং ১৫২ (ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম), ১৯৬ (ধর্ম, বর্ণ, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো) এবং ৬১(২) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)-র অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এই ৬ জনের বিরুদ্ধে। এফআইআর-এ বেআইনি ক্রিয়াকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা 'ইউএপিএ'র ধারা নং ১৮, ৩৮ এবং ৩৯-এর অধীনেও অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের তরফ থেকে গাজিয়াবাদের ডিসিপি (গ্রামীণ) সুরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি জানিয়েছেন, সাইবার নজরদারি চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়া টিমগুলি জানতে পারে যে নাহাল গ্রামের বেশ কয়েকজন দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত। তদন্ত চলাকালে ছয়জনের নাম প্রকাশ্যে আসে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদকে অনুসরণ করছিল এবং তাদের মতাদর্শ প্রচার করছিল।
শাভেজ এই গ্রুপের মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। নাহালের একটি মুদি দোকানে কাজ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে এই শাভেজ জানিয়েছে যে সে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিয়ো দেখেছিল এবং সেখান থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ এবং ফারহাতুল্লাহ ঘোরিকে অনুসরণ করতে শুরু করেছিল। পরে সেই জঙ্গি সংগঠনের ভিডিয়ো অন্য পাঁচ সন্দেহভাজনদের কাছেও পাঠিয়েছিল সে। উল্লেখ্য, বিগত দিনে ভারতে একাধিক পাকিস্তানি গুপ্তচর ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সমাজের নিম্ন স্তরের সাধারণ মানুষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সাররাও রয়েছে। এই আবহে ধৃত ৬ জন পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কতটা 'ঘনিষ্ঠ', তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মোবাইলে ফরেন্সিক পরীক্ষা চালানো হতে পারে।