ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার একটি আদালত বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক পাকিস্তানি মহিলাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আদালত তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দিয়েছে। জরিমানার অর্থ দিতে না পারলে তাঁকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এই রায় দিয়েছেন সাবরুমের সাব-ডিভিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিজেএম)। সাবরুম থানার ৩২/২০২৫ নম্বর মামলার ভিত্তিতে এই মামলার বিচার হয়। আদালত শুনানির শেষে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। দোষী মহিলার নাম লুইস নিঘাত আর্থার বানো। তিনি নিগো এবং নিগাত বানো নামেও পরিচিত। তাঁর বয়স ৬৫ বছর। তিনি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের শেখুপুরা জেলার বাসিন্দা এবং মহম্মদ গুল ফারাজের স্ত্রী বলে তদন্তে জানা যায়।
আদালত তাঁকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের মতে, তিনি বৈধ ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি ছাড়াই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন, যা আইনবিরুদ্ধ। সরকারি পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর সাবরুম রেলওয়ে স্টেশনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) তাঁকে আটক করে। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি একাধিক ভুয়ো পরিচয় দেন। পরে জেরার মুখে স্বীকার করেন যে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক।
তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি নেপালের একটি জেল থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এরপর কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেন। এই তথ্য সামনে আসার পর সাবরুম থানার পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সাবরুম থানার ইন্সপেক্টর অপু দাস। তদন্ত শেষ করে তিনি ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ইমিগ্রেশন (প্যাসেঞ্জার্স) অ্যাক্ট এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
{{/usCountry}}তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি নেপালের একটি জেল থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এরপর কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেন। এই তথ্য সামনে আসার পর সাবরুম থানার পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সাবরুম থানার ইন্সপেক্টর অপু দাস। তদন্ত শেষ করে তিনি ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ইমিগ্রেশন (প্যাসেঞ্জার্স) অ্যাক্ট এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
{{/usCountry}}বিচার চলাকালীন তদন্তকারী সংস্থা আদালতে বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পেশ করে। আদালত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে অভিযুক্ত বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
রায়ে আদালত জানায়, অভিযুক্তকে দুই বছরের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। যদি তিনি জরিমানার অর্থ দিতে না পারেন, তাহলে অতিরিক্ত এক মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সীমান্তবর্তী রাজ্য ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তের ভারতে প্রবেশের পুরো পথ এবং তাঁর গতিবিধি নিয়েও তদন্ত করা হয়েছে। আদালতের রায়ের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।