অপারেশন সিঁদুর নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করল পাকিস্তান। আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরান পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও পাকিস্তান বা ইরান সরকারের তরফে বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। ফলে পাকিস্তানের এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

‘দ্য ট্রিবিউন ইন্ডিয়া’-র একটি প্রতিবেদনে এই দাবির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক জবাবে তিনি বলেন, গত দুই বছরে পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিন ধরে চলা সংঘাত এবং সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান তেহরানকে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে।
এর পাশাপাশি দারের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানও পাকিস্তানকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিল। তবে ইরানের সমর্থন বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তার কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সামরিক সাহায্য, কূটনৈতিক সমর্থন নাকি অন্য কোনও সহযোগিতা—সেটি স্পষ্ট নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ইশাক দার নিজেই ইরান সফর করেছিলেন। সেই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য নাকি ছিল ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাতের সময় পাকিস্তানের পাশে থাকার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানানো। অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। পাহলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত এই সামরিক অভিযান চালায়। ভারতের দাবি ছিল, পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে দু’দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও বিস্তারিত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের লক্ষ্য ছিল পাহলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও বার্তা দেন তিনি।
{{/usCountry}}অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও বিস্তারিত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতের লক্ষ্য ছিল পাহলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও বার্তা দেন তিনি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হলে তা মূলত পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভারতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছেন, সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ এসেছিল বলে ভারতের দাবি। সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পাকিস্তানের নতুন এই দাবি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ইরানের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে ইরান বা পাকিস্তান সরকারের তরফে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত দাবিটির প্রকৃত গুরুত্ব ও পরিধি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।