...
...
Next Story

Makka pact: শিকেয় মক্কা চুক্তি! হুথি হামলায় উধাও, সৌদির ক্ষোভ প্রশমনে ড্যামেজ কন্ট্রোল পাকিস্তানের

Makka pact: রবিবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Published on: Sep 14, 2026, 23:24:55 IST
Advertisement

Makka pact: আবারও বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু পাকিস্তানের কূটনীতি। চলতি বছরের অধিকাংশ সময়ই দ্বিমুখী কৌশলে হাঁটছে পাকিস্তান। একদিকে যুদ্ধংদেহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন বা পেছনের দরজার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন, অন্যদিকে তেহরানের প্রধান উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি বাহিনী এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরু হতেই উভয় ফ্রন্টকে একসঙ্গে ধরে রাখা ইসলামাবাদের জন্য চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরবের ক্ষোভ প্রশমনে ড্যামেজ কন্ট্রোল পাকিস্তানের
সৌদি আরবের ক্ষোভ প্রশমনে ড্যামেজ কন্ট্রোল পাকিস্তানের

বর্তমানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসলামাবাদ আদৌ রক্ষা করবে কিনা—এমন প্রশ্ন ওঠার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে পাকিস্তান। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অঙ্গিকারবদ্ধ হয়, কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকিদের উপরেও হামলা বিবেচনা করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সৌদি ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শাহবাজ শরিফ সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে তিনি হুথিদের এসব হামলা শুধু আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহও আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পরীক্ষার মুখে 'মক্কা চুক্তি'

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, হুথিদের ছোড়া ড্রোনে দু'জন আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদ-সহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদির বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিরা যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ। এই সংঘাত আসলে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সামনে প্রথম বড় পরীক্ষা। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনও সদস্য রাষ্ট্রের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এই চুক্তির আওতায় হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক অভিযান চালাবে কিনা, তা নিয়ে সম্প্রতি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে মক্কা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। এরপরই পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। জানানো হয়, চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং এই মুহূর্তে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা পাকিস্তানের নেই। ফলে সৌদি আরব সরাসরি হামলার মুখে পড়লে চুক্তির শর্ত কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠে।

পাকিস্তানের ড্যামেজ কন্ট্রোল

তবে পরিস্থিতি জটিল হতেই সুর বদলে সৌদির নাগরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, হুথিদের এসব হামলা শুধু আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহও আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও রিয়াদের প্রতি পাকিস্তানের ‘অটুট সমর্থন’-এর প্রশংসা করেছেন।

ইসলামাবাদের উভয়সঙ্কট

পাক শীর্ষ মহলের মূল উদ্বেগ হলো, বছরের শুরুতে সৌদির জ্বালানি কাঠামোয় ইরানের হামলার চেয়েও হুথিদের এই হুমকি পাকিস্তানকে সরাসরি কোনও যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে পাকিস্তানি সেনার উপস্থিতি থাকায় তাদের ওপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।কয়েক বছরের তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও সেখান থেকে কোটি কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে পাকিস্তানের নিজস্ব তেল ও গ্যাস আমদানির বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর হয়ে—যেখানে ইরান ও হুথিদের জাহাজ আটকে দেওয়ার অসীম ক্ষমতা রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে মৈত্রী বাড়াতে গিয়ে কোনওভাবেই তেহরানকে চটিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়তে চাইছে না ইসলামাবাদ।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks