আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার মাঝরাতে একযোগে কাবুল ও কান্দাহারে বিমান হামলায় ১৩৩ তালিবানকে হত্যার পর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধ’ (Open War) ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, শান্তি ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না ইসলামাবাদ।

পাক সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন অনুসারে, পাহাড়ি সীমান্তে আফগান বাহিনী পাকিস্তানি অবস্থানগুলিতে গুলি চালানোর পর তীব্র লড়াই শুরু হয়। এই হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ আফগান যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক। এছাড়া আফগানিস্তানের যোদ্ধাদের গোলাবারুদের একটি বড় ডিপোও ধ্বংস করা করা হয়েছে। এই আবহে এক্স বার্তায় পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘শান্তি ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে পাকিস্তান কোনও আপস করবে না।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় অবস্থানকে দুর্বলতা মনে করে, তবে তাকে শক্ত, সমন্বিত ও চূড়ান্ত জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।’ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের বাইরে কেউ নয় বলেও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
শুক্রবার রাতভর কাবুল, কান্দাহার-সহ আফগান শহরে এয়ারস্ট্রাইক চালানো হয়। তারপরই যুদ্ধের ঘোষণা করে পাকিস্তান। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাকিস্তান বলেছে, কাবুল, কান্দাহারে তাদের হামলা আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব। পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ এক্স পোস্টে লেখেন, ‘পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।’ বিশ্লেষকদের মতে, টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরেই তলানিতে ছিল। শুক্রবারের এই বিমান হামলা এবং পাকিস্তানের ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হল।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতার যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে। আফগানিস্তানের আকাশে বিমান ও বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘ সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় দেশকে আম নাগরিকদের সুরক্ষা এবং কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। আঞ্চলিক পক্ষগুলির মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পাক-বিরোধী হামলা পরিচালনা করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুল ব্যর্থ। পাক অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালিবান সরকার।
{{/usCountry}}দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতার যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মুখে। আফগানিস্তানের আকাশে বিমান ও বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘ সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় দেশকে আম নাগরিকদের সুরক্ষা এবং কূটনীতির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। আঞ্চলিক পক্ষগুলির মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড থেকে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পাক-বিরোধী হামলা পরিচালনা করছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুল ব্যর্থ। পাক অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালিবান সরকার।
{{/usCountry}}