সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে ভিক্ষা করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া টাকা তোলা যাবে না। ভিসার নিয়মও ভাঙা যাবে না। এই মর্মে নিজেদের নাগরিকদের কড়া সতর্কবার্তা দিল পাকিস্তান। সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানি দূতাবাস এই বার্তা দিয়েছে। ওমরাহ যাত্রী এবং সেখানে যাওয়া কর্মীদের জন্য এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, সৌদি আরবের আইন ভাঙলে গ্রেফতার হতে পারেন। জেলেও যেতে হতে পারে। এমনকি শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তানি দূতাবাস এই বার্তা দিতে ব্যবহার করেছে AI-তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তিকে সৌদি পুলিশ গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ধর্মীয় সফরে গিয়ে নিয়ম ভাঙলে কী হতে পারে, সেটাই কার্যত দেখানো হয়েছে এই ভিডিওতে।
মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ে সৌদি প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর। অনুমতি ছাড়া মানুষের কাছে টাকা চাওয়া বা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। পাকিস্তানি নাগরিকদের তাই বৈধ পথেই আর্থিক সাহায্য বা অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
এখানেই উঠছে নানা প্রশ্ন। যে সফর ধর্মীয় পবিত্রতা এবং আত্মশুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, সেখানে গিয়ে ভিক্ষা করার প্রবণতা ঠেকাতে পাকিস্তানকেই এখন নিজের নাগরিকদের এভাবে সতর্ক করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তিকর।
তবে এটা যে একেবারে নতুন সমস্যা নয়, তারও ইঙ্গিত রয়েছে পাকিস্তানের আগের পদক্ষেপে। ২০২৪ সালেই ওমরাহ ভিসার অপব্যবহার করে সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে পাকিস্তান কঠোর নিয়ম চালুর কথা জানিয়েছিল। যাঁরা ওমরাহ ভিসা নিয়ে গিয়ে ভিক্ষা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে দূতাবাস সরাসরি সৌদি আইন মেনে চলার বার্তা দিল।
ভিসার মেয়াদ নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। অনুমোদিত সময়ের বেশি সৌদিতে থাকা যাবে না। যে উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনও কাজও করা যাবে না। সৌদি আরবও হজ ও পবিত্র স্থান সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির কথা বারবার জানিয়েছে। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে অনুমতি ছাড়া পবিত্র এলাকায় প্রবেশ বা হজ করার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
{{/usCountry}}ভিসার মেয়াদ নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। অনুমোদিত সময়ের বেশি সৌদিতে থাকা যাবে না। যে উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনও কাজও করা যাবে না। সৌদি আরবও হজ ও পবিত্র স্থান সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির কথা বারবার জানিয়েছে। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে অনুমতি ছাড়া পবিত্র এলাকায় প্রবেশ বা হজ করার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
{{/usCountry}}পাকিস্তানের ধর্ম মন্ত্রকের ওয়েবসাইটেও হজ ও ওমরাহ পরিষেবায় অনিয়ম বন্ধ করার জন্য নতুন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে পরিষেবা নেওয়া এবং বৈধ আর্থিক লেনদেনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের নাগরিকদের ধর্মীয় সফর নিয়েও এখন দূতাবাসকে বারবার নিয়ম শেখাতে হচ্ছে। ভিক্ষা নয়, অনুমতি ছাড়া টাকা তোলা নয়, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম নয়। সৌদির মাটিতে কোনও বেআইনি কাজ নয়।
প্রশ্ন উঠছে, পবিত্র ওমরাহ সফরের আগে এমন সতর্কবার্তা কেন বারবার দিতে হচ্ছে? পাকিস্তানের জন্য এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ। আর AI ভিডিও দিয়ে দূতাবাসের এই বার্তা যেন সেই অস্বস্তিকেই আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।