সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে সংসদে জবাবদিহির দাবি জানিয়ে সরব বিরোধীরা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভা ও রাজ্যসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার-বিরোধী চাপানউতোর তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছাত্রদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রসঙ্গটি সামনে রেখে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার ‘এক্স’-এ পোস্ট করে তিনি বলেন, ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের ১৩ দিন কেটে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিশুদের উপর লাঠি ও পেলেট গান ব্যবহারের জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাহুলের দাবি, এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে জবাব দিতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে ‘ক্ষমা’ বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
ছাত্র ইস্যুর পাশাপাশি প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়েও বিরোধিতা তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল রবিবার কেরলের আলাপ্পুঝায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার এফসিআরএ সংশোধনী বিল সংসদে আনলে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দল তার জোরালো বিরোধিতা করবে। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনটি সংখ্যালঘু এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা এনজিওগুলিকে নিশানা করার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে। বর্তমান কাঠামোয় বিলটি কংগ্রেসের নীতির পরিপন্থী বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, পলেট গান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সরকারকে সংসদে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে দাবি করেন বেণুগোপাল। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির উপর এই বিল বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
{{/usCountry}}ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, পলেট গান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সরকারকে সংসদে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে দাবি করেন বেণুগোপাল। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির উপর এই বিল বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই সোমবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফে কেরলের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল এবং জাতীয় সমবায় উন্নয়ন নিগম সংশোধনী বিল কার্যসূচিতে রয়েছে। রাজ্যসভাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
এদিকে, এনসিপি (এসপি)-র সাংসদরা সোমবার দলের কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করবেন। সুপ্রিয়া সুলের দাবি, মহারাষ্ট্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েই এই বৈঠক। তবে এফসিআরএ বিল নিয়ে দলের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে এনসিপি (এসপি)। বর্তমান রূপে প্রস্তাবিত বিলটি দলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানানো হয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। প্রয়াগরাজে ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে এক ছাত্রের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ছাত্রের বক্তব্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিফলন। তিনি ছাত্রদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, তাঁদের পাশে তিনি ‘পুরো শক্তি’ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
সব মিলিয়ে ছাত্রদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ, এফসিআরএ সংশোধনী বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো একাধিক ইস্যুতে সোমবার সংসদে বিরোধীদের সরব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলির উপর সরকারের অগ্রাধিকারের কারণে অধিবেশনে ফের সরকার-বিরোধী সংঘাতের আবহ তৈরি হতে পারে।