থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় এই সপ্তাহে বাড়তে চলেছে ভিড়। তবে সাধারণ পর্যটকের নয়। সেখানে আসছেন প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন। তাঁরা আসছেন মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে। ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর এবার তাঁদের জন্য রাখা হয়েছে বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়।

রণতরীটি ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছেছে। সঙ্গে রয়েছে আরও দুটি মার্কিন নৌযান। পাঁচ দিনের এই সফরে সেনাদের ধাপে ধাপে তীরে নামার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একসঙ্গে সবাই শহরে নামবেন না। এই বিশাল মার্কিন বাহিনীর আগমন ঘিরে পাতায়ায় খুশি যেমন আছে, তেমনই উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের বেআইনি যৌন ব্যবসা নিয়ে সতর্ক হয়েছে থাই প্রশাসন। কারণ পাতায়া দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত নাইটলাইফ ও যৌন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। থাইল্যান্ডে যৌন ব্যবসা বেআইনি হলেও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে তা এখনও দৃশ্যমান।
মার্কিন নাবিকদের আগমনের আগে শহরের সমুদ্রসৈকত এবং প্রধান নাইটলাইফ এলাকাগুলিতে টহল বাড়িয়েছে পুলিশ। গত সপ্তাহের অভিযানেও একাধিক মানুষকে সন্দেহভাজন যৌন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। একটি অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে ৪০ থেকে ৫০ জন আটকের কথাও বলা হয়েছে।
পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক স্রাথংইউ বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে না। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ নজরদারি বাড়ালেও প্রকাশ্য জায়গায় যৌন ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে কি না, সবসময় তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। তবে মার্কিন নাবিকদের আগমনকে অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছে শহরটি। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেসের হিসাব, একজন মার্কিন সেনা দিনে প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার থাই বাত খরচ করতে পারেন। সেই অর্থ হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকান এবং বিনোদন ব্যবসায় যেতে পারে।
{{/usCountry}}পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক স্রাথংইউ বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে না। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ নজরদারি বাড়ালেও প্রকাশ্য জায়গায় যৌন ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে কি না, সবসময় তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। তবে মার্কিন নাবিকদের আগমনকে অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছে শহরটি। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেসের হিসাব, একজন মার্কিন সেনা দিনে প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার থাই বাত খরচ করতে পারেন। সেই অর্থ হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকান এবং বিনোদন ব্যবসায় যেতে পারে।
{{/usCountry}}পাতায়ার ব্যবসায়ীরাও তাই এই সফরকে স্বাগত জানাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটনে মন্দার মধ্যে থাকা শহরের জন্য মার্কিন নাবিকদের আগমন সাময়িক অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। পাতায়ার সঙ্গে মার্কিন সেনাদের সম্পর্ক অবশ্য বহু পুরনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডে থাকা মার্কিন সেনারা বিশ্রামের জন্য এই শহরে আসতেন। সেই থেকেই পাতায়ার সঙ্গে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির সম্পর্ক তৈরি হয়।
অন্যদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এই সফরের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এবং কঠিন সামরিক অভিযান। রণতরীটি সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেখানে মোতায়েন করা হয়। টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকার কারণে এই মোতায়েন আধুনিক সময়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর অন্যতম দীর্ঘ অভিযান হিসেবে সামনে এসেছে।
এই দীর্ঘ অভিযানের ফলে জাহাজে থাকা সেনাদের মানসিক চাপ এবং মনোবল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার পাতায়ার কয়েক দিনের বিশ্রাম তাঁদের জন্য তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে শহরের আইনশৃঙ্খলা, যৌন ব্যবসা এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন থাই প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।