দেশ জুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আইনি চাপের মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সিদ্ধান্ত, নির্দেশিকা এবং সফটওয়্যারে পরিবর্তন যথাযথ ভাবে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সম্মতি ছাড়াই করা হয়েছে। সেই সব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করার আবেদনও করা হয়েছে। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আবেদন এমন এক সময় সামনে এল, যখন নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের মতবিরোধ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত ভাবে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে ছিল নতুন ভোটারদের জন্য Form 6-এ পরিবর্তন, ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়া এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্যের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত’ এবং ‘বেআইনি’ বলে আপত্তি করেছিলেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের ফর্মে SIR সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের পরিবর্তন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে করা হয়নি।
{{/usCountry}}ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত’ এবং ‘বেআইনি’ বলে আপত্তি করেছিলেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের ফর্মে SIR সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের পরিবর্তন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে করা হয়নি।
{{/usCountry}}তবে নির্বাচন কমিশন এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন নথি, পর্যবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রতিষ্ঠানগত আলোচনারই অংশ। SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি পুরো কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই কাজ হয়েছে বলে কমিশন দাবি করেছে। ফলে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিকে কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নষ্ট করে এমন বিষয় হিসেবে দেখানোর বিরোধিতা করেছে তারা।
SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া, নাম যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং আবেদনকারীদের নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ভোটার তালিকা সংশোধনের পরে বাদ যাওয়া নাম ফেরানোর জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে করা নতুন পিটিশন SIR বিতর্ককে আরও আইনি মাত্রা দিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনও এই আবেদনের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে ঘোষণা করেনি। পিটিশনে তোলা অভিযোগের বিচার এবং তার গ্রহণযোগ্যতা আদালতের পরবর্তী শুনানিতেই স্পষ্ট হবে।
অন্য দিকে, SIR নিয়ে বিরোধ আরও রাজনৈতিক রূপও নিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বেআইনি কারচুপি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে একদিকে আদালতে আইনি লড়াই, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর, দুই দিকেই SIR এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, কমিশনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে কি না এবং অভিযোগগুলির আইনি ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের সিদ্ধান্তের।