ইরান-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে বিশ্বের প্রায় সর্বত্র। তবে ভারতে বাড়েনি দাম। এই আবহে সাধারণ ভারতীয় উপভোক্তারা এখনই সরাসরি তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে প্রভাবিত হচ্ছেন না। তবে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। এই নিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল বিক্রিতে লিটার প্রতি প্রায় ২৪ টাকা এবং ডিজেল বিক্রিতে লিটারে ১০৪ টাকা করে লোকসান করছে।

গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল। এছাড়া তেল কোম্পানিগুলোকেও দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বলেছে সরকার। এদিকে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। ইতিমধ্যেই আগামী ৬০ দিনের জন্য অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই সঙ্গে দেশের শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে পেট্রোল পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে, ভারতে তেমনটা দেখা যায়নি।
ইরান যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট ক্রুডের ম ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলারের আশেপাশে ছিল। তবে যুদ্ধের মাঝে তা ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মায়ানমারে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশ। এছাড়া ফিলিপিন্সে ৭১.৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ৫২.৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৪৬.৫ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪০.৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ৩৯.৩ শতাংশ, জিম্বাবুয়ে ৩৯.১ শতাংশ, লাওসে ১১৭.৫ শতাংশ, পেরুতে ৪৫.৮ শতাংশ, গুয়াতেমালায় ৩৪.৪ শতাংশ দাম বেড়েছে পেট্রোলের। এদিকে যুদ্ধের আবহে মায়ানমারে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১১৯.৯ শতাংশ। এছাড়া লাওসে ১১৯.৯ শতাংশ, ফিলিপিন্সে ১১১ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ৯২ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৯১.৩ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮৬.১ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৮৪.৬ শতাংশ, লেবাননে ৭০.৩ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৬৪.১ শতাংশ দাম বেড়েছে ডিজেলের।