Flydubai Attack: মাঝ আকাশে হাড়হিম কাণ্ড। ককপিটের দরজা খুলতেই সব যাত্রীর চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। দেখা যায়, রক্তে ভিজে গিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের শরীর। তাঁকে টেনে ককপিটের বাইরে নিয়ে এসেছিলেন কয়েক জন যাত্রী। তাঁর বীরত্বেই প্রাণে বেঁচে যান দেড়শ-রও বেশি যাত্রী। ফ্লাইদুবাইয়ের উড়ান নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে। আর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং হাইজ্যাকের চেষ্টার ঘটনার পর থেকে একটাই প্রশ্ন বারবার উঠছে - বিমানের মধ্যে অত নিরাপত্তা সত্ত্বেও উড়ানের মাঝে ককপিটের মধ্যে পাইলটকে আঘাত করেছেন খোদ কো-পাইলট, কীভাবে সম্ভব?

প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, হামলাকারী ওমানি কো-পাইলট হয়তো বিমানের কাটলেরি বা খাবারের সঙ্গে দেওয়া ছুরি দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর আক্রমণ করেছিলেন। তবে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক তদন্ত রিপোর্ট বলছে, কোনও স্মাগলিং করা ছুরি বা বাইরের অস্ত্র নয়, বরং বিমানের ককপিটে রাখা জরুরি 'ক্র্যাশ অ্যাক্স' বা ফায়ার অ্যাক্স (কুঠার) দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর চালানো হয়েছিল প্রাণঘাতী হামলা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ’ (CBS News)-এর এক বিস্ফোরক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আনা হয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও নিজের বক্তব্যে নিশ্চিত করেছিলেন যে এই হামলায় ককপিটের ফায়ার অ্যাক্স ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সাধারণত ইমার্জেন্সি কোনও সময় ব্যবহার করা হয়।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার২৪' (Flightradar24)-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মাঝআকাশে ঘটে এই ঘটনা। ককপিটে ফায়ার অ্যাক্স দিয়ে আক্রমণের সময় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি ৩৩,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত পড়ে ১৭,০০০ ফুটে (প্রায় ১০,০০০ মিটার থেকে ৫,১০০ মিটার) চলে আসে। এরপর জর্ডন সীমান্তের কাছাকাছি এসে বিমানটি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে এবং ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর সৌদির তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল-এর সঙ্গে বিমানের রেডিও সংযোগের অডিও শোনেছেন এমন এক ব্যক্তি জানান, প্রথমে সৌদি আরব ও জর্ডনের আকাশসীমায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও, চরম পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে পরবর্তীতে তাবুকে অবতরণের অনুমতি মেলে। মাঝআকাশে বিমানে যখন আতঙ্কে যাত্রীরা চিৎকার করছিলেন, তখন গুরুতর আহত ক্যাপ্টেনের গলা কাঁপছিল। তিনি কাঁপা গলায় রেডিওতে 'মে ডে' বা জরুরি প্রাণরক্ষার বার্তা হিসেবে কল পাঠান এবং জানান বিমানে হাইজ্যাক করার চেষ্টা চলছে।
ককপিটে কেন রাখা ছিল ফায়ার অ্যাক্স?
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন ও নিয়মাবলী অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান তৈরির সময় শুরু থেকেই ককপিটের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে একটি 'ক্র্যাশ অ্যাক্স' বা ফায়ার কুঠার বসিয়ে দেওয়া হয়। বিমান চলাচলের ইতিহাসে গত বহু দশক ধরেই দুর্ঘটনার পরবর্তীতে এটি একটি আবশ্যিক জরুরি সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২৫ বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-র ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আগে পর্যন্ত এই অস্ত্র মূল যাত্রীবাহী কেবিনেই রাখা থাকত। তবে ৯/১১ ঘটনার পর সুরক্ষার খাতিরে সেটিকে কেবিন থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে পাইলটদের নাগালের মধ্যে, ককপিটের ভেতরে সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়।
কো-পাইলটের পরিচয় অজানা
{{/usCountry}}আন্তর্জাতিক এভিয়েশন আইন ও নিয়মাবলী অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতিটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান তৈরির সময় শুরু থেকেই ককপিটের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে একটি 'ক্র্যাশ অ্যাক্স' বা ফায়ার কুঠার বসিয়ে দেওয়া হয়। বিমান চলাচলের ইতিহাসে গত বহু দশক ধরেই দুর্ঘটনার পরবর্তীতে এটি একটি আবশ্যিক জরুরি সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২৫ বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-র ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আগে পর্যন্ত এই অস্ত্র মূল যাত্রীবাহী কেবিনেই রাখা থাকত। তবে ৯/১১ ঘটনার পর সুরক্ষার খাতিরে সেটিকে কেবিন থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে পাইলটদের নাগালের মধ্যে, ককপিটের ভেতরে সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তরিত করা হয়।
কো-পাইলটের পরিচয় অজানা
{{/usCountry}}এদিকে, হামলাকারী ওমানি কো-পাইলটের নাম ও আসল উদ্দেশ্য এখনও অজানা। তবে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলাকারী কো-পাইলটকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করলেও প্রকাশ্যে বেশি কিছু জানায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আপাতত ইজরায়েলগামী সমস্ত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে বলে জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই সংস্থা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার দুই বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেল। নেতানিয়াহু সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, 'ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এবং ককপিটে প্রবেশ করা সাহসী যাত্রীরা সেদিন জীবন বাজি রেখে ৯/১১-র মতো আরও এক বিশালাকার বিপর্যয় রুখে দিয়েছেন।'