...
...
Next Story

আকাশে আজ গোলাপি আভা? ১ এপ্রিলের ‘পিঙ্ক মুন’ নিয়ে কেন এত মাতামাতি! জানুন দেখার সেরা সময় ও নির্ঘণ্ট

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্ববাসীর কাছে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার দিন। জেনে নিন, এই দিনটি বিজ্ঞানের নিরিখেও কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Published on: Apr 1, 2026, 08:23:40 IST
Advertisement

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতেই আকাশপ্রেমীদের জন্য এক মহাজাগতিক উপহার নিয়ে হাজির হয়েছে প্রকৃতি। ১ এপ্রিল রাতে আকাশে দেখা যাচ্ছে বছরের অন্যতম উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় পূর্ণিমা—'পিঙ্ক মুন' (Pink Moon)। এই পূর্ণিমা কেবল সৌন্দর্যেই নয়, বরং এর পেছনে থাকা প্রাচীন লোককথা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের কারণেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আকাশে আজ গোলাপি আভা? ১ এপ্রিলের ‘পিঙ্ক মুন’ নিয়ে কেন এত মাতামাতি
আকাশে আজ গোলাপি আভা? ১ এপ্রিলের ‘পিঙ্ক মুন’ নিয়ে কেন এত মাতামাতি

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিনটি বিশ্ববাসীর কাছে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার দিন। ১লা এপ্রিল তার পূর্ণ মহিমায় আকাশে উদিত হয়েছে 'পিঙ্ক মুন'। যদিও নাম শুনে মনে হতে পারে চাঁদ আজ গোলাপি রঙ ধারণ করবে, কিন্তু এর পেছনের রহস্যটি আসলে অন্য জায়গায়।

কেন একে 'পিঙ্ক মুন' বলা হয়?

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের রঙের পরিবর্তনের সাথে এই নামের কোনো সম্পর্ক নেই। এই নামটির উৎপত্তি হয়েছে উত্তর আমেরিকার আদিবাসীদের কাছ থেকে। বসন্তের এই সময়ে সেখানে এক ধরণের বুনো গোলাপি রঙের ফুল ফোটে, যার নাম 'ক্রিপিং ফ্লোক্স' (Creeping Phlox) বা 'মস পিঙ্ক'। এই ফুলের আগমনের সাথে মিলিয়ে এপ্রিলের পূর্ণিমাকে তারা 'পিঙ্ক মুন' বলে অভিহিত করত। এছাড়া একে 'পাস্কাল মুন' (Paschal Moon) বা বসন্তের চাঁদও বলা হয়।

কখন দেখা যাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য?

পিঙ্ক মুন বা এপ্রিলের পূর্ণিমা ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মে এই পূর্ণিমার সময় বিভিন্ন উৎসবের তারিখ নির্ধারিত হয়। আবার খ্রিস্টধর্মে ইস্টার (Easter) পালনের সময় এই পাস্কাল মুনের ওপর ভিত্তি করেই গণনা করা হয়। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাশাপাশি এটি লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন।

পর্যবেক্ষণের জন্য কিছু টিপস

  • ১. শহরের আলো থেকে দূরে: আপনি যদি চাঁদের আসল উজ্জ্বলতা উপভোগ করতে চান, তবে কৃত্রিম আলো বা শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোনো ফাঁকা জায়গায় যান।
  • ২. সূর্যাস্তের পরপরই: যখন চাঁদ দিগন্তরেখার ঠিক উপরে থাকে, তখন একে সবথেকে বড় এবং মায়াবী দেখায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় 'মুন ইলিউশন' বলা হয়।
  • ৩. আবহাওয়ার খবর: দেখার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। মেঘলা আকাশ থাকলে দেখার পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

মহাকাশের এই বিস্ময় আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির নিয়ম কতটা নিখুঁত এবং সুন্দর। ১ এপ্রিলের এই পিঙ্ক মুন কেবল একটি চাঁদ নয়, এটি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্কেত এবং পৃথিবীর সাথে মহাবিশ্বের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। তাই যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে আজ রাতে একবার আকাশের দিকে তাকাতে ভুলবেন না! না হলে এক মহাজাগতিক বিস্ময় থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe