মণিপুরে জঙ্গি দমন এবং পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার। পর পর কয়েকটি অভিযানে দুই পিএলএ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন প্রি প্যাকের এক সক্রিয় সদস্যকেও ধরা হয়েছে বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। অন্য একটি অভিযানে থানার হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক অভিযুক্তকেও ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলিতে মণিপুর পুলিশের সক্রিয়তা আরও এক বার সামনে এল।

ইম্ফলে প্রথম অভিযান। পুলিশ জানিয়েছে, হাওবাম মারক লৌরেমবাম লেইকাই এলাকা থেকে দুই পিএলএ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মাইবাম অরুণ ওরফে উরু সিংহ এবং ওয়াহেংবাম বিমল ওরফে মণি ওরফে লুওয়াং মেইতেই। অরুণের বয়স ৫০ বছর। তিনি ইম্ফল পূর্বের খুরাই নিংথৌবুং লেইকাইয়ের বাসিন্দা। বিমলের বয়স ২৬ বছর। তাঁর বাড়ি ইম্ফল পশ্চিমের থাংমেইবন্দ এলাকায়। তাঁদের কাছ থেকে একটি হোন্ডা অ্যাক্টিভা স্কুটারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ওই দুজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের গতিবিধি নিয়ে আগে থেকেই নজর ছিল কি না, তা অবশ্য বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে গ্রেফতারের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক কোনও কর্মকাণ্ডে যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
এর পাশাপাশি চুরাচাঁদপুর জেলাতেও অভিযান চালায় পুলিশ। টেডিম রোডের কোইটে গ্রাম থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ৩০টি সাবান কেসে রাখা সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। মোট ওজন প্রায় ৩৭৩ গ্রাম। ধৃতদের নাম লেটিনথাং ভাইফেই এবং লুঙ্গৌলেন হাওকিপ। তাঁদের কাছ থেকে একটি রুপোলি রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাতেও তদন্ত চলছে।
অন্য দিকে, পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩০ বছরের বুয়ামায়ুম আয়ুব খান নামে ওই ব্যক্তি গত ২৬ অগস্ট লিলং থানার হেফাজত থেকে পালিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, থানার সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে লিলং থানায় একটি এফআইআর ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পরে ৪ অক্টোবর ইম্ফল পূর্বের হাট্টা এলাকা থেকে তাঁকে ফের ধরা হয়।
{{/usCountry}}অন্য দিকে, পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩০ বছরের বুয়ামায়ুম আয়ুব খান নামে ওই ব্যক্তি গত ২৬ অগস্ট লিলং থানার হেফাজত থেকে পালিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, থানার সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে লিলং থানায় একটি এফআইআর ছিল। প্রায় এক মাসের বেশি সময় পরে ৪ অক্টোবর ইম্ফল পূর্বের হাট্টা এলাকা থেকে তাঁকে ফের ধরা হয়।
{{/usCountry}}এখানেই শেষ নয়। ৫ অক্টোবর ইম্ফল পশ্চিমের মায়াং ইম্ফল থানার মামাং লেইকাই এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেই অভিযানে লইশ্রম বিশাল সিংহ ওরফে নাওচা নামে ২৯ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রি প্যাকের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পুলিশের সন্দেহ, নতুন সদস্য নিয়োগের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিডিও ইম্ফল পশ্চিম এবং সিডিও থৌবালের যৌথ দল এই অভিযান চালায়।
একসঙ্গে এতগুলি ঘটনায় গ্রেফতারি ঘিরে মণিপুরে আবারও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের গতিবিধি, নতুন সদস্য নিয়োগ এবং মাদক পাচারের মতো একাধিক বিষয়েই নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। পাশাপাশি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তকে ফের গ্রেফতার করায় তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে।
সবকটি ঘটনাতেই তদন্ত এখনও চলছে। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। কোনও চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগ ছিল কি না, সামনে আরও কেউ আসেন কি না, এখন সে দিকেই নজর মণিপুর পুলিশের।