...
...
Next Story

PM-CM Removal Bill: 'পিএম-সিএম অপসারণ' বিল নিয়ে জোর জল্পনা, লোকসভা-রাজ্যসভায় নম্বরের জোর পরীক্ষা করতে চায় বিজেপি?

প্রস্তাবিত বিলের সবচেয়ে আলোচ্য বিধানটি হল- যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অপরাধের অভিযোগ থাকে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি এবং তিনি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় বা পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে পদ ছাড়তে হবে।

Published on: Jul 2, 2026, 08:30:35 IST
Advertisement

সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলতে পারে সংসদের এই অধিবেশন। যদিও কেন্দ্র সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, এই অধিবেশনেই কেন্দ্র সরকার একটি বহুচর্চিত ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০২৫ সংসদে পেশ করতে পারে। প্রস্তাবিত এই বিলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের অপসারণ সংক্রান্ত নতুন বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনকে ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, বিলটি বর্তমানে বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বাধীন যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-র পর্যালোচনাধীন রয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই জেপিসি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুমোদন করতে পারে। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিলটি আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।

প্রস্তাবিত বিলের সবচেয়ে আলোচ্য বিধানটি হল- যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অপরাধের অভিযোগ থাকে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি এবং তিনি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় বা পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে পদ ছাড়তে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের নির্দেশে তাঁকে অপসারণ করা যেতে পারে, অথবা হেফাজতের ৩১তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর পদ খালি হয়ে যাবে। যদিও সূত্রের দাবি, আইনের অপব্যবহার রুখতে কিছু সুরক্ষামূলক বিধানও জেপিসির সুপারিশে রাখা হতে পারে।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত বছর অগস্টে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ৩১ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। তবে কংগ্রেস-সহ 'ইন্ডিয়া' জোটের অধিকাংশ সদস্য কমিটির কার্যক্রম বয়কট করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সরকার বিরোধীদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে না এবং জেপিসিকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।

যেহেতু এটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে এনডিএর শক্তি বেড়েছে বলে দাবি করা হলেও, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে বিলটি সংসদে এলে আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই দলটি এনডিএকে সমর্থন করে। এছাড়া, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৬ জন সাংসদও একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে লোকসভায় এনডিএর শক্তি বেড়ে ৩৩০-এ পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৬২) থেকে এখনও তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

রাজ্যসভাতেও এনডিএর অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আম আদমি পার্টির (আপ) সাতজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ২৪২ সদস্যের রাজ্যসভায় এনডিএর সংখ্যা বেড়ে ১৪১ হয়েছে। এর সঙ্গে ১০ জন মনোনীত ও নির্দল সদস্যের সমর্থন যোগ হলে এনডিএর নিশ্চিত সমর্থন ১৫১-এ পৌঁছায়। যদিও এটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট, সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার তুলনায় এখনও ১১টি ভোট কম। এই পরিস্থিতিতে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে আঞ্চলিক দলগুলির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি) অতীতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি ইন্ডিয়া ব্লক থেকে নিজেদের দূরত্ব বাড়িয়েছে ডিএমকে। এই আবহে তারা বিজেপির বিলকে সমর্থন করে কি না, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe