...
...
Next Story

ইরানের জ্বালানি যুদ্ধের কোপ হরমুজ প্রণালীতে! শান্তি ফেরাতে ৫ রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন PM মোদীর

তেল-গ্যাসের ভাঁড়ারে হামলা হলে চাপ বাড়বে ভারতেরও। এই পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লিও বরাবরের মতো চাইছে, অবিলম্বে যুদ্ধ থামুক।

Published on: Mar 20, 2026, 12:23:59 IST
Advertisement

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের ইরানে হামলা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। পাল্টা ইরান বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে, বিশ্বের একাধিক দেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে ওমান, কাতার, ফ্রান্স, জর্ডান এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশের প্রধানদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্ন। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ নৌ-পরিবহনের উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

৫ রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন PM মোদীর (@NarendraModi)
৫ রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন PM মোদীর (@NarendraModi)

বুধবার রাতে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র চালায় তেহরান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই কাতার এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারগুলিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। এহেন হামলার ফলে শক্তিসম্পদ আমদানি-রপ্তানি নিয়ে বাড়ছে সংশয়। তেল-গ্যাসের ভাঁড়ারে হামলা হলে চাপ বাড়বে ভারতেরও। এই পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লিও বরাবরের মতো চাইছে, অবিলম্বে যুদ্ধ থামুক। বৃহস্পতিবার পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন করে সে কথাই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কাতার

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নিজের এক্স-হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই, কাতারের আমির, মাননীয় শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে এবং কাতারের জনগণকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। একই সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছি যে, আমরা কাতারের পাশে আছি এবং ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে কাতারে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অব্যাহত সমর্থন এবং যত্নের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছি। আমরা হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করার পক্ষে।'

জর্ডান

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এই ফোনালাপের পরে নিজের এক্স-হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছি। সেই সঙ্গে, আলোচনা ও কূটনীতিতে ফেরার বিষয়ে কথা বলেছি।’ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, সপ্তাহদুয়েক আগেও ম্যাক্রোঁকে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রথম থেকেই যুদ্ধ নিয়ে ভারত এবং ফ্রান্সের অবস্থান প্রায় একইরকম। সামরিক অভিযান থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছে দুই দেশই।

ওমান

আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গেও ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, ‘সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে আমার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আলোচনা ও কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারত এবং ওমান। এই বিষয়ে আমরা দু’জনেই একমত। আমাদের বিশ্বাস এতেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে।’ এর পাশাপাশি, খুশির ঈদের আগে পোস্টের মাধ্যমে ওমানের জনগণকে আগাম শুভেচ্ছাও জানান তিনি। ওমানে হামলার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমি ওমানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। হাজার হাজার মানুষ, যার মধ্যে ভারতীয় নাগরিকরাও রয়েছেন তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে ওমান প্রশাসনের প্রশংসা জানাই।’

মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আসন্ন হরি রায়া এইদিলফিতরি (ঈদ-উল ফিতর) উৎসব উপলক্ষে তাঁকে এবং মালয়েশিয়ার জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমরা পশ্চিম এশিয়ার গভীর ভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছি এবং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস এবং দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতি যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’

জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পরই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু। বৃহস্পতিবার ইরান উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, ইরানি ড্রোনে লোহিত সাগরের ধারে এক সৌদির অপরিশোধিত তেলের ঘাঁটিতে আগুন লাগে। কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনাগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে। কুয়েতের দুটি তেল শোধনাগারেও আগুন লাগে। এই সংঘাত আরও তীব্র হয় যখন ইজরায়েল ইরানের গ্যাসকেন্দ্র এবং বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe