PM Narendra Modi: আজ ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। দেশজুড়ে দেশাত্মবোধের আবহে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। দিল্লির লালকেল্লায় হয় মূল অনুষ্ঠান। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। আর স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মুহূর্তের জন্য থমকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আক্রমণ শানাল বিরোধী শিবির। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাবলীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (AAP)।

১৯ সেকন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটি জৈব অর্থনীতিতে ভারতের অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের অংশের। তিনি বলছিলেন, জৈব অর্থনীতিতে দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ২০১৪ সালের আগে এই সংক্রান্ত বাণিজ্য ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকার। সেটাই এখন বেড়ে কত হয়েছে বলতে গিয়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যান তিনি। তার পরে সামনের পোডিয়ামে রাখা কিছু দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জৈব অর্থনীতি ২০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর পরেই স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর মুহূর্তের জন্য থমকে যাওয়ার ওই ভিডিও ক্লিপ এক্স হ্যান্ডলে তুলে ধরে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘টেলিপ্রম্পটার ছাড়া মহামানব।’ অন্যদিকে, আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে 'আত্মবিশ্বাসহীন, উদ্বিগ্ন ও নার্ভাস প্রধানমন্ত্রী' বলে কটাক্ষ করেছেন।
দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে শনিবার দিল্লির লালকেল্লা থেকে ৭৫ মিনিটের ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত চার বছরের মধ্যে এটি তাঁর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম। তবে এই সংক্ষিপ্ত ভাষণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, নকশালবাদ দমন, এমএসএমই (MSME), উচ্চশিক্ষা এবং কোচিং সেন্টারের মতো একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যে তোলপাড়
স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এক নতুন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জঙ্গল কেন্দ্রিক সশস্ত লালসন্ত্রাস বা নকশালবাদকে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, সমাজের ভেতরের ‘দিমাগি নকশাল’দের (বুদ্ধিজীবী নকশাল) (Dimaagi Naxals) নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দেশের উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে দ্রুত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর সরকার নকশালমুক্ত ভারত গড়ার শপথ নিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ মাওবাদী হিংসা তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। একসময়ের উপদ্রুত অঞ্চলগুলো আজ ধীরে ধীরে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরছে এবং সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’
{{/usCountry}}স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় এক নতুন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জঙ্গল কেন্দ্রিক সশস্ত লালসন্ত্রাস বা নকশালবাদকে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, সমাজের ভেতরের ‘দিমাগি নকশাল’দের (বুদ্ধিজীবী নকশাল) (Dimaagi Naxals) নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দেশের উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে দ্রুত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর সরকার নকশালমুক্ত ভারত গড়ার শপথ নিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ মাওবাদী হিংসা তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। একসময়ের উপদ্রুত অঞ্চলগুলো আজ ধীরে ধীরে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরছে এবং সেখানে দেশের জাতীয় পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’
{{/usCountry}}প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাঁওতা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। বিজেপির বহুল ব্যবহৃত 'আরবান নকশাল' শব্দবন্ধের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, 'দুই-তিন বছর আগে তিনি তাঁর রাজনৈতিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের 'আরবান নকশাল' বলেছিলেন; তখন সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল যে 'আরবান নকশাল'-এর সংজ্ঞা কী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিয়েছিলেন যে 'আরবান নকশাল' বলে কিছু নেই, এর কোনও সংজ্ঞাও নেই। আজ প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য 'দিমাগি নকশাল' (বুদ্ধিজীবী নকশাল) শব্দটি ব্যবহার করছেন।' তিনি আরও বলেন, 'জাতিভিত্তিক জনগণনার (Caste Census) দাবিকে উনি এক সময় 'আরবান নকশাল' চিন্তাধারা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, অথচ এক বছর আগেই তিনি নিজে জাতিভিত্তিক জনগণনার কথা ঘোষণা করেন। ১২ বছর পরেও ওঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন কিছুই ছিল না।'