পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌপরিবহণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিল ভারত। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে এই কথোপকথন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় মোদি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় আলোচনার অগ্রগতিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌপরিবহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ভারতের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারত সরকারের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতাকেও স্বাগত জানিয়েছে ভারত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হওয়ায় ভারত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার আমদানিতে সমস্যার মুখে পড়েছিল। কারণ, ভারতের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়েই আসে। সম্প্রতি তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন। যদিও সেই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন। যদিও সেই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
{{/usCountry}}এদিকে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারত একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী ৪ জুলাই তেহরানে অনুষ্ঠেয় এই কর্মসূচিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘারিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের শুরুতে তেহরানে এক বিমান হামলায় আলি খামেনেই নিহত হন। ঘটনার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সংযত অবস্থান নিলেও পরে বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোকপুস্তকে স্বাক্ষর করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদি-পেজেশকিয়ানের এই টেলিফোন আলোচনা ভারত-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।