...
...
Next Story

PNS Hunain Latest Update: ভারতীয় রণতরীকে ধাক্কা দিয়ে কী হাল পাকিস্তানের PNS Hunain-এর? সামনে এল নয়া রিপোর্ট

PNS Hunain-কে ইয়র্মুক শ্রেণির একটি অফশোর পেট্রল ভেসেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাহাজটির পেন্যান্ট নম্বর F-273 এবং এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর তুলনামূলক নতুন সংযোজন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এটি পরিষেবায় আসে।

Published on: Sep 17, 2026, 08:30:01 IST
Advertisement

সমুদ্রে বড় বড় কথা বলা আর বাস্তবে সমুদ্রে নিজের জাহাজ সামলানো—দুটো যে এক জিনিস নয়, তা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল পাকিস্তান। ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্দরে ফিরে যেতে হয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ PNS Hunain-কে। ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। আর এই খবর সামনে আসতেই পাকিস্তানের নৌ-সামরিক সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

PNS Hunain-কে ইয়র্মুক শ্রেণির একটি অফশোর পেট্রল ভেসেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
PNS Hunain-কে ইয়র্মুক শ্রেণির একটি অফশোর পেট্রল ভেসেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, PNS Hunain-কে ইয়র্মুক শ্রেণির একটি অফশোর পেট্রল ভেসেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাহাজটির পেন্যান্ট নম্বর F-273 এবং এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর তুলনামূলক নতুন সংযোজন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এটি পরিষেবায় আসে। অর্থাৎ খুব বেশি পুরনো নয়—কিন্তু নতুন জাহাজ বলেই যে সমুদ্রে ধাক্কা খাওয়ার ছাড়পত্র মেলে না, সেটা বোধহয় পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে এবার নতুন করে বুঝতে হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর PNS Hunain যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বন্দরে ফিরে যেতে হয়। অন্যদিকে ভারতীয় নৌযানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে ভারত সরকারের বক্তব্য। ফলে সামুদ্রিক সংঘর্ষের খবর শুনে পাকিস্তানের প্রচারের বাঘ যদি থাকে, বাস্তব ছবিতে দেখা যাচ্ছে সেই বাঘকেই আগে বন্দর খুঁজতে হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দিল্লিও চুপ থাকেনি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পাকিস্তানের Charge d’Affaires-কে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারত ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘অপেশাদারসুলভ’ বলে মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির Article 10-এর প্রসঙ্গও তুলেছে দিল্লি। এই চুক্তির লক্ষ্যই হল সামরিক মহড়া, চলাচল ও বিভিন্ন অভিযানের ক্ষেত্রে আগাম তথ্য দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বা সংঘাতের সম্ভাবনা কমানো।

PNS Hunain-এর সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করা যুদ্ধজাহাজগুলির ক্ষেত্রে কঠোর নেভিগেশন প্রোটোকল এবং collision avoidance procedure মেনে চলার কথা। তাই ঘটনাটিকে কেবল একটি সাধারণ ‘ধাক্কা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

পাকিস্তানের জন্য অবশ্য ঘটনাটি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। সামরিক প্রচারে শক্তির ছবি দেখানো যত সহজ, বাস্তবে একটি যুদ্ধজাহাজকে নিরাপদে পরিচালনা করা ততটাই কঠিন। বিশেষ করে সামনে যদি থাকে ভারতীয় নৌবাহিনীর মতো একটি বাহিনী, যার নীলজল সক্ষমতা এবং সমুদ্রভিত্তিক নজরদারি ক্রমশ বাড়ছে।

তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এবং ঠিক কীভাবে দুই জাহাজের মধ্যে ধাক্কা লাগল—এই বিষয়ে এখনও সব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ভারতের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত নৌ-অপারেশনাল তথ্য জানানো হয়নি। তাই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত ছবি পেতে আরও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা থাকছেই।

তবু এই মুহূর্তে একটি বিষয় পরিষ্কার—সমুদ্রে শক্তি দেখানোর গল্প আর বাস্তব নৌ-অভিযানের দক্ষতা এক নয়। পাকিস্তানের PNS Hunain-এর বন্দরে ফেরা অন্তত সেই পুরনো কথাটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল: পোস্টারে যুদ্ধজাহাজ যতই চকচকে হোক, সমুদ্রে আসল পরীক্ষা হয় জাহাজ চালানোর সময়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks