ইউরোপের একের পর এক দেশ থেকে ক্রমেই উঠে আসছে অশান্তির খবর। কিছুদিন আগেই ফ্রান্স হয়েছিল উত্তাল। এবার খবর পোল্যান্ড থেকে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড। যে ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। সেই পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশ দেন ওই আদালতেরই এক বিচারপতি। তারপরই তীব্র প্রতিবাদে নামে পোল্যান্ডের বিরোধী পার্টির জোট। এদিকে, দেশ উত্তেজনায় ফুটতে শুরু করতেই সেদেশের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি সেনেগালের সফরে গেলেও. মাঝ আকাশ থেকে বিমান ঘুরিয়ে তড়িঘড়ি দেশে ফেরেন।

পোল্যান্ডের সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের দীর্ঘতম মেয়াদের বিচারপতি অ্যানা করউইন-পিওত্রোভস্কা, সেদেশের আদালতের প্রেসিডেন্ট বোগদান শভিয়েচকোভস্কি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বার্তলোমেই সোচানস্কিকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশ দেন। ওই সময়ের জন্য ট্রাইবুনালের দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পোল্য়ান্ডে এই ঘোষণাই যাবতীয় বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়। মুহূর্তে পথে নামে প্রধান বিরোধী দল ল’ অ্যান্ড জাস্টিস। দলের নেতা ইয়ারোস্লাভ কাচিনস্কি বিক্ষোভে শামিল হন। এরপর রাতের দিকে প্রকাশ্যে আসে সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের অভ্যন্তরীণ বিরোধও। সাংবিধানিক ট্রাইবুনালের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের সাসপেনশনের নির্দেশকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করা হয়। ট্রাইবুনালের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে অ্যানার দেওয়া রায়কে খারিজ করে জানানো হয় যে, শভিয়েচকোভস্কি এখনও বৈধ ভাবে প্রধান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল আছেন।
উল্লেখ্য, অ্যানার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টায় ছিলেন। এদিকে, আবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সমর্থন জানিয়েছেন অ্যানার রায়কে। অন্যদিকে, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ঘটনার সময় সেনেগালের উদ্দেশে রওনা হয়ে ছিলেন স্পেনের আকাশসীমায়। সেখান থেকেই তিনি তাঁর বিমান ঘুরিয়ে দেশে ফেরার নির্দেস দেন। দেশে ফিরে আসেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। এদিকে, পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের খবর মেলে। বেশ কিছু সূত্রের দাবি,প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কির সঙ্গে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী টাস্কের সরকারের ক্ষমতার সংঘাতের কারণেই পোল্যান্ডকে এমন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকতে হল।