ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও চতুর্দশ। অস্ত্রোপচারে তাঁর ডান ফুসফুসের নীচের অংশ বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার রোমের জেমেলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় ৭১ বছরের ক্যাথলিক ধর্মগুরুর। ভ্যাটিকানের তরফে জানানো হয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। আপাতত জ্ঞান ফিরেছে পোপের। কোনও জটিলতাও দেখা যায়নি। হাসপাতালের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন তিনি। তবে ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে, আরও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এই খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কী ধরনের ক্যানসার ধরা পড়েছে?

ভ্যাটিকানের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পোপের ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা ধরা পড়েছে। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি পরিচিত ধরন। সাধারণত ফুসফুসের গ্রন্থি-জাতীয় কোষ থেকে এই ক্যানসারের উৎপত্তি হয়। অস্ত্রোপচারের সময় বাদ দেওয়া অংশের টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যানসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকেরা।
কয়েক দিন আগেই পোপ জানিয়েছিলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর ফুসফুসে একটি ছোট অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ডের সন্ধান মিলেছে। চিকিৎসকেরা সেটি অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই পরামর্শ মেনেই অস্ত্রোপচারে রাজি হন তিনি।
অস্ত্রোপচারের জন্য মঙ্গলবার রোমের জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পোপকে। চিকিৎসকেরা আধুনিক ভিডিয়ো-সহায়িত পদ্ধতিতে তাঁর ডান ফুসফুসের নীচের অংশ বাদ দেন। অস্ত্রোপচার করতে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের বিবৃতি অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময়ে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি।
কতটা বিপদমুক্ত পোপ?
অস্ত্রোপচার সফল হলেও এখনই পোপকে সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ, ক্যানসারের পর্যায় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ভ্যাটিকান। টিউমারের আকার কতটা বড় ছিল এবং ক্যানসার ফুসফুসের বাইরে বা লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়েছে কি না, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এর উপরেই নির্ভর করবে পরবর্তী চিকিৎসার ধরন।
চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া। তবে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পরীক্ষার ফলের উপর নির্ভর করবে আরও চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না। কেমোথেরাপি বা অন্য কোনও চিকিৎসা লাগবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
{{/usCountry}}চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া। তবে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পরীক্ষার ফলের উপর নির্ভর করবে আরও চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না। কেমোথেরাপি বা অন্য কোনও চিকিৎসা লাগবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।
{{/usCountry}}ভ্যাটিকান জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক ভাবেই জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন পোপ। আপাতত হাসপাতালের ঘরে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে তাঁকে। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আমেরিকা সফরে যাওয়ার কথা ছিল পোপের। সেই সফর হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন পোপ লিও চতুর্দশ। তাঁর আসল নাম রবার্ট প্রিভোস্ট। শিকাগোতে জন্ম তাঁর। দীর্ঘদিন পেরুতে ধর্মযাজক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। পোপ হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যে কাটছিল তাঁর দিন। এমন সময়ে ক্যানসারের খবর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে এবং পরবর্তী চিকিৎসায় কতটা সাড়া মিলছে। সেই তথ্য সামনে এলেই পোপের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন বিশ্বের বহু মানুষ।