...
...
Next Story

সূর্যকান্তের ইস্তফা চেয়ে পোস্ট, আদালত অবমাননার মামলা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি

কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের সমাজমাধ্যমের পেজে প্রধান বিচারপতির ইস্তফা চেয়ে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি, বিচারাধীন মামলা নিয়ে বিচারপতিদের নিশানা করে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার বন্ধ করতে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরির দাবিও উঠেছে।

Published on: Oct 14, 2026, 11:32:29 IST
Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট। তার জেরেই এ বার আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন কয়েক জন আইনজীবী। তাঁদের আবেদনে কংগ্রেস, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের নামও রয়েছে। কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের সমাজমাধ্যমের পেজে প্রধান বিচারপতির ইস্তফা চেয়ে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি, বিচারাধীন মামলা নিয়ে বিচারপতিদের নিশানা করে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার বন্ধ করতে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরির দাবিও উঠেছে।

কী ছিল বিতর্কিত পোস্টে?

সূর্যকান্তের ইস্তফা চেয়ে পোস্ট, আদালত অবমাননার মামলা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি! (PIB)
সূর্যকান্তের ইস্তফা চেয়ে পোস্ট, আদালত অবমাননার মামলা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি! (PIB)

বিতর্কের সূত্রপাত ১২ অক্টোবর। কেরল কংগ্রেসের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা যদি তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় না হয়, তা হলে তাঁর পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে মন্তব্য করা হয়, তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়া হবে, যিনি এই দায়িত্ব সামলাতে পারবেন।

এই পোস্টকে ঘিরেই আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, দেশের প্রধান বিচারপতির মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির কাছে প্রকাশ্যে ইস্তফা চাওয়ার ঘটনা বিচারব্যবস্থার উপর চাপ তৈরির চেষ্টা। বিশেষত, কোনও বিষয়ে আদালতে শুনানি চললে সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিচারপতিকে নিশানা করে রাজনৈতিক প্রচার চালানো অনুচিত বলেই দাবি তাঁদের।

মহুয়া মৈত্রের পোস্টেরও উল্লেখ আবেদনে

এই বিতর্কের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি সমাজমাধ্যম পোস্টের প্রসঙ্গও জুড়েছে। একই সন্ধ্যায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, প্রধান বিচারপতি যে কাজ করতে পারবেন না, সেই কাজ তাঁরা করবেন। আবেদনকারীরা মনে করছেন, এই ধরনের পোস্ট বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ তৈরির বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হতে পারে।

আবেদনকারীরা সংবিধানের ১২১ এবং ১২৪(৪) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর জন্য সংবিধানে নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। রাজনৈতিক দলের তরফে প্রকাশ্যে প্রধান বিচারপতির ইস্তফা দাবি করা কিংবা তাঁর বিকল্প খোঁজার কথা বলা সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে আবেদনে।

এ ছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারপতির পদত্যাগের দাবিকে ওই দুই সংগঠন নিন্দা করেছিল বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস পাঠিয়ে বক্তব্য শোনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। বিচারাধীন মামলা নিয়ে বিচারপতিদের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বন্ধ করতেও নির্দেশিকা তৈরির আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে, প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে সমাজমাধ্যমের একটি পোস্ট এখন নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। এই আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks