Prashant Kishor in By-Election: বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ঘোষণা করেছেন, আসন্ন বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি নিজেই প্রার্থী হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র থেকে তাঁর লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি এই লড়াইকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা একে ‘রাজনৈতিক ধামাকা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাঁকিপুর কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি নেতা নীতিন নবীনের দখলে ছিল। তিনি টানা পাঁচবার এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ায় তিনি বিধায়ক পদ ছাড়েন। সেই কারণেই এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে প্রার্থী হয়ে কার্যত সরাসরি গেরুয়া শিবিরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছরের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টি ২৪৩টির মধ্যে ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনও জিততে পারেনি। দলটির ভোট শতাংশ ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। ফলে বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত লড়াই শুধু তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, জন সুরাজ পার্টির গ্রহণযোগ্যতারও বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, এই নির্বাচন আসলে বিহারের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের জনপ্রিয়তার গণভোট। তাঁর দাবি, বাঁকিপুরের মানুষ বিহারের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তাই তাঁরা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, যদি জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করেন, তাহলে একমাত্র বিধায়ক হয়েও তিনি বিধানসভার বাকি ২৪২ জনের চেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
একইসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে প্রশান্ত কিশোর অভিযোগ করেন, নীতিন নবীন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সমর্থন পেলেও সংসদে যাওয়ার সুযোগ মিলতেই কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করার পর সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা উচিত ছিল।
{{/usCountry}}একইসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে প্রশান্ত কিশোর অভিযোগ করেন, নীতিন নবীন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সমর্থন পেলেও সংসদে যাওয়ার সুযোগ মিলতেই কেন্দ্রটি ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, জনগণের বিশ্বাস অর্জন করার পর সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা উচিত ছিল।
{{/usCountry}}তবে বিজেপি এই চ্যালেঞ্জকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশান্ত কিশোরের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই। তিনি বলেন, এর আগেও প্রশান্ত কিশোর ভোটে নামার কথা বলেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান। তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এখন মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি প্রশান্ত কিশোরকে একজন দূরদর্শী, মেধাবী এবং জননেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাঁকিপুর উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান সময়ে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত কিশোরের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভোট কৌশলবিদ হিসেবে বহু রাজনৈতিক দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিলেও এবার প্রথমবারের মতো তিনি নিজেই সরাসরি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। ফলে বাঁকিপুর উপনির্বাচনের ফলাফল শুধু একটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং বিহারের রাজনীতিতে জন সুরাজ পার্টির ভবিষ্যৎ এবং প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠবে।