...
...
Next Story

Balochistan and Pakistan-Occuiped Kashmir: মতামত: ভেঙে খান-খান পাকিস্তান? নতুন সম্ভাবনা তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে এশিয়া

Balochistan and Pakistan-Occuiped Kashmir: বালোচিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে লিখলেন প্রত্যূষা সরকার। যে বালোচিস্তানে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে। আর পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবল বিক্ষোভ চলছে।

Published on: Jul 19, 2026, 18:50:45 IST
Advertisement

Balochistan and Pakistan-Occuiped Kashmir: পাকিস্তানের মানচিত্রে কি তবে নতুন এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই উস্কে দিচ্ছে বালোচিস্তানকে ঘিরে সাম্প্রতিক এক ঘোষণা। বালোচ নেতা মীর ইয়ার বালোচ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দাবি করেছেন, বালোচিস্তান আর পাকিস্তানের অংশ নয়; এটি এখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বালোচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, নতুন রাষ্ট্রের প্রতীক ও পরিচয় গঠনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ‘মা চুকাইন বালোচানি’-কে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ, জাতীয় পতাকার প্রবর্তন এবং ‘বালোচি ফালুস’ নামে নিজস্ব মুদ্রা চালু করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক মহলের পাশাপাশি ভারতের কাছেও বালোচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন

ভারতের পদক্ষেপ কী হবে?

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে এএফপি)
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে এএফপি)

পুরো ঘটনাটি বালোচিস্তান প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, পাকিস্তান সরকার ও সেনার লাগামছাড়া অত্যাচার এবং আন্দোলনের পটভূমিতে এই ঘোষণা পাকিস্তানে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই আহ্বান ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রশ্নও তৈরি করেছে। নয়াদিল্লির যে কোনও পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও পহেলগাঁও হামলা

১৬ এপ্রিল, ২০২৫। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সম্মেলনে পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির দেশের আদর্শ ও ভিত্তি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন— হিন্দু ও মুসলিম কখনও একসঙ্গে বসবাস করতে পারে না; দ্বি-জাতি তত্ত্বই পাকিস্তানের মূল ভিত্তি। তাঁর এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও ইতিহাসের বহু পুরনো বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই, ২২ এপ্রিল, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরন ভ্যালিতে সেই কালো দিন নেমে আসে। হামলাকারীরা পর্যটকদের পরিচয় ও ধর্ম জিজ্ঞাসা করে বেছে-বেছে হত্যা করে। ঘটনাটি ভারত-সহ গোটা বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ভারত 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দেয়।

ভারতের কাশ্মীর নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রথম বড়ো পদক্ষেপ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ, যার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়। দ্বিতীয়ত, সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে । তৃতীয়ত, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) প্রশ্নে ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে একটি অভিন্ন অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে।

পিওকে নিয়ে ভারতের অবস্থান বহুদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সংবিধান এবং সংসদে গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তাব অনুযায়ী, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা বারবার বলেছেন যে ভারত বলপ্রয়োগের নীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে পিওকে-রবিষয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত এবং সুস্পষ্ট। এদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি সেনা লাগামছাড়া ও ভয়াবহ অত্যাচার চালাচ্ছে। নরক করে তোলা হয়েছ তাঁদের জীবনকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আন্দোলনকারীরা নিজেদের অঞ্চলকে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ হিসেবেই উল্লেখ করছেন।

'শেষ কথা পাকিস্তানি সেনার বন্দুকের নল বলবে না, সেখানকার মানুষই বলবেন'

এমনিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে কাশ্মীর প্রশ্ন বরাবরই একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় আন্দোলন হিসেবেই নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং সমগ্র অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পুরো বিষয়টির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বালোচিস্তান হোক কিংবা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে শেষ কথা পাকিস্তানি সেনার বন্দুকের নল বলবে না, সেখানকার সাধারণ মানুষই বলবেন।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখিকার মত ব্যক্তিগত)

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe