PM Modi: প্রতি বছরের মতো এবারও সেনা জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার, ছত্তিশগড়ের বস্তারে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করতে গিয়ে নকশালবাদ দমন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। নকশালবাদ দমনে কেন্দ্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সাহসিকতাকেই কৃতিত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী সাধারণত দীপাবলি জওয়ানদের সঙ্গেই কাটান। সেই ২০১৪ থেকে এটাই রীতি। ২০২৬-এর ৩১ মার্চের মধ্যে ‘মাওবাদীমুক্ত ভারত’ গড়ার শপথ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার তাই প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন এক সময়ে ‘মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল’ বলে পরিচিত বস্তারকে। করণপুরে কোবরা বাহিনীর অপারেশনস বেসে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাওবাদীদের নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও বিপদ যায়নি। দিমাগি নকশালরা বহু প্রতিষ্ঠানে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, '২০২৬ সালের এই দীপাবলি সত্যিই বিশেষ। কয়েক দশক ধরে নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়লাভের পর এটিই প্রথম দীপাবলি। এটি এমন এক দীপাবলি, যখন দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত। এটি এমন এক দীপাবলি, যখন আমাদের কোটি কোটি নাগরিক নকশালবাদের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠেছেন।' তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ-ও জানিয়েছেন যে, বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।
এদিন ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'এই সাফল্যের মাঝেও আমাদের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা গেলেও, বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখন 'দিমাগি নকশাল'দের হাতে চলে গিয়েছে। আজও তারা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছে। এই আদর্শগত নকশালরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নানা সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের এদের চিহ্নিত করতে হবে, পরাজিত করতে হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।' প্রধানমন্ত্রীর নিশানা যে সাম্প্রতিক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের দিকে তাতে সন্দেহ নেই রাজনীতিকদের। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। তাঁর দাবি, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। একে সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ়তার সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বস্তারে এসেছেন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। দেশের সীমান্তে যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলান এবং দেশের অভ্যন্তরে যাঁরা নিরাপত্তা বজায় রাখেন, দু'পক্ষের ভূমিকাই দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, '১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকেও আপনাদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং সেবার মনোভাবকে কুর্নিশ জানাতে এসেছি।'
২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পূর্ববর্তী সরকারগুলির নকশাল মোকাবিলার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হত। তিনি বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সময়ের সরকারগুলি নকশালবাদকে একটি দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখেছিল এবং সমস্যাটির সমাধানে কোনও পদক্ষেপ করেনি।' মাওবাদীরা নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকী মানুষের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এক বছরে দেশে ২,০০০টি নকশাল হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। একই বছরে ওই জেলায় অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, 'এই ভূমি আমাদের বীর জওয়ানদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু প্রাসাদে বসবাসকারী প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে দুঃখের কোনও আওয়াজ শোনা যায়নি। তাঁদের চোখে এক ফোঁটা জলও আসেনি।' ছত্তিশগড়ে কয়েক দশকে ১,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
{{/usCountry}}২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পূর্ববর্তী সরকারগুলির নকশাল মোকাবিলার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হত। তিনি বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সময়ের সরকারগুলি নকশালবাদকে একটি দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে দেখেছিল এবং সমস্যাটির সমাধানে কোনও পদক্ষেপ করেনি।' মাওবাদীরা নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকী মানুষের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এক বছরে দেশে ২,০০০টি নকশাল হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। একই বছরে ওই জেলায় অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, 'এই ভূমি আমাদের বীর জওয়ানদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু প্রাসাদে বসবাসকারী প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে দুঃখের কোনও আওয়াজ শোনা যায়নি। তাঁদের চোখে এক ফোঁটা জলও আসেনি।' ছত্তিশগড়ে কয়েক দশকে ১,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
{{/usCountry}}শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কোটি কোটি দেশবাসী আপনাদের নিয়ে গর্বিত। এই কৃতজ্ঞতা ও আত্মীয়তার অনুভূতি থেকেই দেশের যে প্রান্তেই আপনারা মোতায়েন থাকুন না কেন, প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক দীপাবলির শুভেচ্ছা।'