'ভারত-কানাডা কৌশলগত অংশীদারিত্বে তাঁর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ভারত ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নতুন মোড়ে পৌঁছেছে। গত জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে ভারতে এসেছেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী।

সোমবার মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। দু'দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে আলোচনা করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনায় পুনরায় চালু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন তাঁরা। পরে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দকে স্বাগত জানায়। দু'দেশের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাবাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃষি, জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।' কেবল প্রধানমন্ত্রী নন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী। বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, 'গত কয়েক মাস ধরে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। আমরা পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করছি।' তিনি আরও জানান, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে কানানাসকিসে হওয়া বৈঠকে যে ইতিবাচক ভাবনার কথা উঠে এসেছে, আমরা সেই মনোভাবেই কাজ করছি।'
বিদেশমন্ত্রী বলেন, 'ভারত কানাডাকে দেখে এক পরিপূরক অর্থনীতি হিসেবে, যেখানে বহুত্ববাদ ও উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করেই আমরা একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করতে চাই।' তাঁর কথায়, 'আজকের বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষই কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি করেছে।' কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে ভারত ও কানাডার সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। বিশেষত, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।
আরও পড়ুন-সৃজনশীল ধ্বংসমন্ত্র! স্থায়ী উন্নয়নে নয়া দিশা দেখিয়ে নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদের
২০২৩ সালে কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর করা অভিযোগের জেরে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যায় ভারতের ভূমিকা থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর সেই দাবিকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দেয় ভারত। ঘটনার দায়ও অস্বীকার করা হয় নয়া দিল্লির তরফে। সেই সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কানাডার সংসদীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির নেতা মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তাঁর জয়ের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জুন মাসে কানানাসকিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-কার্নির বৈঠক সেই পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বর্তমানে তিন দেশ সফরে রয়েছেন, যার প্রথম গন্তব্য ভারত। এরপর তিনি চিন ও সিঙ্গাপুর সফর করবেন।