ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিন ধরে যৌন কেলেঙ্কারি ও কুখ্যাত জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বিদ্ধ রাজা চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেফতার হয়েছেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রু ওরফে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই আইনি পদক্ষেপ ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

রয়্যাল ফ্যামিলির গ্ল্যামার আর ঐতিহ্যের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে যে চাপা উত্তেজনা চলছিল, তা অবশেষে এক চরম নাটকীয় রূপ নিল। ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমেরিকার বিতর্কিত বিনিয়োগকারী এবং দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং নারী পাচার চক্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ বাড়ছিল। অবশেষে আইনের জালে বন্দি হলেন ডিউক অফ ইয়র্ক।
এপস্টিন সংযোগ ও মূল অভিযোগ
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগের সূত্রপাত হয় ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক মহিলার বয়ানে। ভার্জিনিয়া অভিযোগ করেছিলেন যে, যখন তিনি নাবালিকা ছিলেন, তখন জেফরি এপস্টিন তাঁকে লন্ডনে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রিন্স এই অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও, এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে তাঁর যাতায়াত এবং তাঁদের মধ্যকার বন্ধুত্বের সপক্ষে অজস্র প্রমাণ সামনে আসে। এপস্টিনের মৃত্যুর পরও এই কেলেঙ্কারির ছায়া অ্যান্ড্রুর পিছু ছাড়েনি।
রাজকীয় মর্যাদা থেকে পতন
গত কয়েক বছরে রানি এলিজাবেথ বেঁচে থাকাকালীনই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সমস্ত সামরিক উপাধি এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজা চার্লস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অ্যান্ড্রুর প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজার ভাই হওয়ার সুবাদে তিনি যে আইনি কবচ পেতেন, তা এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে এই গ্রেপ্তারের খবর আসার পর রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}গত কয়েক বছরে রানি এলিজাবেথ বেঁচে থাকাকালীনই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সমস্ত সামরিক উপাধি এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজা চার্লস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অ্যান্ড্রুর প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রাজার ভাই হওয়ার সুবাদে তিনি যে আইনি কবচ পেতেন, তা এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে এই গ্রেপ্তারের খবর আসার পর রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}তদন্তে নতুন মোড়
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু গোপন নথিপত্র (Epstein Files) জনসমক্ষে আসার পর প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভূমিকা নিয়ে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল ভার্জিনিয়া জুফ্রে নন, আরও অনেক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে।
বাকিংহাম প্যালেসের প্রতিক্রিয়া
বাকিংহাম প্যালেস এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও এটি স্পষ্ট যে, রাজা চার্লস তাঁর ছোট ভাইয়ের এই কেলেঙ্কারি থেকে রাজপরিবারকে দূরে রাখতে চাইছেন। জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং রাজতন্ত্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনের পথে কোনো বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা।
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেফতার কেবল একজন ব্যক্তির পতন নয়, বরং এটি আধুনিক যুগে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার এক বড় উদাহরণ। এপস্টাইন কেলেঙ্কারির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই রাজপুত্রের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী লেখা আছে, তা জানতে এখন গোটা বিশ্বের নজর লন্ডনের আদালতের দিকে।