ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে পাকিস্তানে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গিয়েছে করাচিতে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, করাচির সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এদিকে পাক অধিকৃত লাদাখে গিলগিট বালটিস্তানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত হন। লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন গতকাল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকে ঘিরে ধরেছিল ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে থাকা আমেরিকান নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলে নির্দেশিকা জারি করে মার্কিন দূতাবাস। এরই সঙ্গে আমেরিকার দূতাবাসে পাকিস্তানিদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। পাকিস্তানে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদেরও সতর্ক করেছে ব্রিটেনের সরকার।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু হয়েছে ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায়। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মুসলিম দেশে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে। এমনই এক প্রতিবাদ হিংসাত্মক আকার ধারণ করল পাকিস্তানের করাচিতে। সেখানে আমেরিকার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভরত পাকিস্তানিরা তাণ্ডব শুরু করেন। লাঠি নিয়ে কনস্যুলেটের কাচ ভাঙার চেষ্টা করা হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় ভবনে। এই পরিস্থিতিতে কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাকিস্তানি পুলিশ গুলি চালায় বিক্ষোভকারীদের ওপর। ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী জখম হন। অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান। মৃতদের সবাই গুলিবিদ্ধ হন।
জানা গিয়েছে, শতাধিক মানুষ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে প্রতিবাদ দেখান। একটা সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এরপর প্রতিবাদীদের একটা অংশ লাঠি নিয়ে চড়াও হয় কনস্যুলেট ভবনের ওপরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এদিকে ভারতের কাশ্মীর থেকে শুরু করে লেহ, লখনউতে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা রাস্তায় নেমেছিলেন আমেরিকা বিরোধী মিছিলে। এদিকে ইরাকেও আমেরিকার বিরুদ্ধে মিছিল বেরিয়েছে খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে।
{{/usCountry}}জানা গিয়েছে, শতাধিক মানুষ করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে প্রতিবাদ দেখান। একটা সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এরপর প্রতিবাদীদের একটা অংশ লাঠি নিয়ে চড়াও হয় কনস্যুলেট ভবনের ওপরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর বাধ্য হয়ে কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এদিকে ভারতের কাশ্মীর থেকে শুরু করে লেহ, লখনউতে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমরা রাস্তায় নেমেছিলেন আমেরিকা বিরোধী মিছিলে। এদিকে ইরাকেও আমেরিকার বিরুদ্ধে মিছিল বেরিয়েছে খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে।
{{/usCountry}}এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালেই ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল এবং আমেরিকা। এরই জবাবে পালটা হামলা চালায় ইরান। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে এই সংঘাতের আবহে তেল আবিবগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান মাঝআকাশ থেকে ফিরে আসে ভারতে। ইরান এবং ইজরায়েল উভয় দেশই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে বহু উড়ান সংস্থা তাদের উড়ান বাতিল করে। জবাবি হামলায় ইরানের তরফ থেকে মিসাইল ছোড়া হয় পশ্চিম এশিয়ার ৬টি দেশে। কাতার, সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে বিস্ফোরণ শোনা যায়। বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও আছড়ে পড়ে ইরানি মিসাইল। এছাড়াও ইজরায়েলের বহু জায়গায় হামলা চালায় ইরান। এরই মাঝে খামেনেইর মৃত্যুর বিষয়ে জানা যায়। সেই হামলায় আইআরজিসি প্রধান এবং ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরও মৃত্যু হয়। এরপরও হামলা জারি রেখেছে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পালটা হামলা চালিয়ে এবার জবাব দিচ্ছে ইরান। এরই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।