১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে 'যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান, যিনি ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে কারারুদ্ধ করে এবং এর সামরিক বাহিনী জামাতে ইসলামির আদর্শে অনুপ্রাণিত উগ্রপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর সহযোগিতায় পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক একটি অভিযান শুরু করে, যার ফলে ব্যাপক হারে অসামরিক নাগরিকদের গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে জামাতে ইসলামিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে?
প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান রাষ্ট্রসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ শিরোনামে ওয়াশিংটনে একটি টেলিগ্রাম পাঠান, যাতে তিনি লিখেছিলেন, 'এছাড়াও, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মদদে অবাঙালি মুসলিমরা পরিকল্পিতভাবে গরীব মানুষের এলাকায় হামলা চালাচ্ছে এবং বাঙালি ও হিন্দুদের হত্যা করছে।' পরবর্তীতে, ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল, যা পরে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিতি লাভ করে, আর্চার ব্লাড এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের ২০ জন কর্মকর্তা মার্কিন সরকারের নীরবতার প্রতিবাদ জানান। তাঁরা যুক্তি দেন যে, এই সংঘাতকে শুধুমাত্র একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত, কারণ এর সঙ্গে গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধ জড়িত। তৎকালীন কূটনীতিক বলেছিলেন, 'আমরা হস্তক্ষেপ না করার নৈতিক সিদ্ধান্তও নিয়েছি, কারণ তা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।'
প্রস্তাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থী মিত্ররা ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে বাঙালি বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার নারীকে যৌন দাসত্বে বাধ্য করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে যে, তারা গণহত্যা, গণধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের মাধ্যমে নির্মূল করার জন্য বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সমগ্র জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায় তাদের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী নয়, এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রস্তাবটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তিনি যেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের মিত্র জামাতে ইসলামি কর্তৃক বাঙালি হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
{{/usCountry}}প্রস্তাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থী মিত্ররা ধর্ম বা লিঙ্গ নির্বিশেষে বাঙালি বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার নারীকে যৌন দাসত্বে বাধ্য করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে যে, তারা গণহত্যা, গণধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের মাধ্যমে নির্মূল করার জন্য বিশেষভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সমগ্র জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সম্প্রদায় তাদের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী নয়, এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রস্তাবটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তিনি যেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের মিত্র জামাতে ইসলামি কর্তৃক বাঙালি হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
{{/usCountry}}