অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আপার সিয়াং জেলার ইয়িংকিয়ং শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের আশপাশে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল জেলা প্রশাসন। পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষ এক জায়গায় জড়ো হতে পারবেন না। একই সঙ্গে মিছিল, সভা, পদযাত্রা ও ধর্নার উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ ঘিরে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার রিপোর্ট ঘিরে বিক্ষোভের আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অশোক তাজো ১১ অক্টোবর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পুলিশ প্রশাসনের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা রিপোর্টকে কেন্দ্র করে সংগঠিত বা অসংগঠিত ভাবে মিছিল, সমাবেশ ও ধর্না হতে পারে। সেই জমায়েতকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকারি দফতর, সরকারি সম্পত্তি এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা?
প্রশাসনের নির্দেশে কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানকে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের দফতর চত্বর, স্থানীয় থানা, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের আবাস এবং বিধায়ক আলো লিবাংয়ের বাসভবন। এই সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে ওই সব এলাকায় মিছিল, সভা, পদযাত্রা বা অন্য কোনও কর্মসূচি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, চিহ্নিত সরকারি স্থাপনা ও তার চত্বরের মধ্যে ছুরি, তলোয়ার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে যাওয়া যাবে না।
কী আইনে নিষেধাজ্ঞা?
{{/usCountry}}তবে ওই সব এলাকায় মিছিল, সভা, পদযাত্রা বা অন্য কোনও কর্মসূচি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, চিহ্নিত সরকারি স্থাপনা ও তার চত্বরের মধ্যে ছুরি, তলোয়ার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে যাওয়া যাবে না।
কী আইনে নিষেধাজ্ঞা?
{{/usCountry}}ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারায় এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জনশান্তি বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাই আগাম শুনানি ছাড়াই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
১১ অক্টোবর থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। তা চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ২২৩ নম্বর ধারা এবং অন্য প্রযোজ্য আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সিয়াং প্রকল্প ঘিরে কেন উদ্বেগ?
প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প অরুণাচল প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির একটি। তবে প্রকল্পের সমীক্ষা, স্থানীয় মানুষের মতামত এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের আশঙ্কা প্রশাসনের চিন্তা বাড়িয়েছে। এখন নজর, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকে এবং প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ মেটাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে।