Psychology of listening to songs on repeat: আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন—কিংবা হয়তো আমরা নিজেরাই—যারা একই প্রিয় গান বারবার, লুপে শুনতে ভালোবাসেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিংবা দিনের পর দিন একই পরিচিত সুর ও কথা মনের মধ্যে বাজতে থাকে। সাধারণ চোখে অনেকেই মনে করতে পারেন, এই মানুষেরা হয়তো অতীত আঁকড়ে বাঁচছেন, কিংবা নতুন কোনো গান বা ট্রেন্ডের সাথে মানিয়ে নিতে পারছেন না।

নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, পরিচিত গান লুপে শোনার এই অভ্যাস মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মনে একধরণের মানসিক স্থিতিশীলতা তৈরি করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। বর্তমান ২০২৬ সালের দ্রুত ও ব্যস্ত জীবনযাত্রার প্রেক্ষিতে মানুষের এই ‘মিউজিক রিপিট’ করার মানসিকতা ও তার পেছনের আসল বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।
গান আমাদের অবচেতন মনের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, তা আমরা সবাই জানি। তবে একই পরিচিত গান বারবার শোনার পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের এক বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক মেকানিজম বা রণকৌশল কাজ করে। মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত গবেষণায় উঠে আসা প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক আরাম (Emotional Regulation)
গবেষকদের মতে, যখন আমরা কোনো অত্যন্ত পরিচিত গান শুনি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক জানে যে পরের লাইনে কোন সুর বা কোন শব্দটি আসতে চলেছে। এই ‘পূর্বাভাস’ বা প্রেডিক্টেবিলিটি (Predictability) মানুষের মস্তিষ্ককে একধরণের আরাম দেয়। যখন কোনো মানুষ অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা একাকীত্বের মধ্য দিয়ে যান, তখন নতুন কোনো গান শোনার মানসিক শক্তি তাঁর থাকে না। কারণ নতুন গান শোনার জন্য মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হয়। সেই জায়গায় একটি চেনা পুরনো গান লুপে শুনলে তা মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ বাড়ায়, যা মুহূর্তে মন শান্ত করতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. স্থিতিশীলতার অনুভূতি ও মানসিক নিরাপত্তা (Sense of Stability)
আজকের ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। কাজের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোলাহল এবং অনিশ্চয়তা মানুষের মনে একধরণের অস্থিরতা তৈরি করে। এই চরম অনিশ্চিত পৃথিবীতে একটি পরিচিত গান হলো একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা কমফোর্ট জোনের মতো। চেনা সুরটি মানুষের মনে এই ভরসা জাগায় যে, চারপাশের সবকিছু বদলে গেলেও এই সুরটি একই রকম রয়েছে। এই অনুভূতি মানুষের অবচেতন মনে একধরণের মানসিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা (Stability) তৈরি করে, যা উদ্বেগ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
৩. নস্টালজিয়া এবং আত্মপরিচয়ের সংযোগ
{{/usCountry}}আজকের ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। কাজের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোলাহল এবং অনিশ্চয়তা মানুষের মনে একধরণের অস্থিরতা তৈরি করে। এই চরম অনিশ্চিত পৃথিবীতে একটি পরিচিত গান হলো একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা কমফোর্ট জোনের মতো। চেনা সুরটি মানুষের মনে এই ভরসা জাগায় যে, চারপাশের সবকিছু বদলে গেলেও এই সুরটি একই রকম রয়েছে। এই অনুভূতি মানুষের অবচেতন মনে একধরণের মানসিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা (Stability) তৈরি করে, যা উদ্বেগ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
৩. নস্টালজিয়া এবং আত্মপরিচয়ের সংযোগ
{{/usCountry}}পরিচিত গান বারবার শোনার সাথে নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতার সম্পর্ক গভীর, তবে তা নেতিবাচক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন তার জীবনের কোনো সুন্দর সময়ের (যেমন স্কুল-কলেজের দিন বা কোনো বিশেষ মুহূর্ত) গান বারবার শোনে, তখন সে আসলে নিজের অতীত অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এটি মানুষকে বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করার ইতিবাচক শক্তি জোগায়, অতীতে বন্দি করে না।
৪. গভীর মনোযোগ ও কাজের গতি বৃদ্ধি
অনেকে পড়াশোনা বা অফিসের কোনো জটিল কাজ করার সময় একই গান লুপে চালিয়ে রাখেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরিচিত সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজলে তা বাইরের কোলাহলকে ব্লক বা আটকে দিতে সাহায্য করে। যেহেতু গানটি চেনা, তাই এটি মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় না, বরং মস্তিষ্কের ‘হাইপার-ফোকাস’ অবস্থা সচল রাখে, যা কাজের উৎপাদনশীলতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।
তাই পরের বার যখন হেডফোনে একই গান দশমবারের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক চালাবেন, তখন কোনো অপরাধবোধে ভুগবেন না। আপনার অবচেতন মন আসলে তার নিজের মতো করে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিচ্ছে। একই গান বারবার শোনা অতীতে আটকে থাকার লক্ষণ নয়, বরং এটি হলো মনের ক্লান্তি দূর করে নিজেকে আবার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি।