...
...
Next Story

Music for anxiety: একই গান বারবার শোনেন? আপনি কেমন মানুষ? লুপে গান শোনার কারণ জানলেন বিজ্ঞানীরা

Repeated music regulates emotion study: গান আমাদের অবচেতন মনের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, তা আমরা সবাই জানি। তবে একই পরিচিত গান বারবার শোনার পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের এক বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক মেকানিজম বা রণকৌশল কাজ করে।

Published on: Jul 10, 2026, 11:38:06 IST
Advertisement

Psychology of listening to songs on repeat: আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন—কিংবা হয়তো আমরা নিজেরাই—যারা একই প্রিয় গান বারবার, লুপে শুনতে ভালোবাসেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কিংবা দিনের পর দিন একই পরিচিত সুর ও কথা মনের মধ্যে বাজতে থাকে। সাধারণ চোখে অনেকেই মনে করতে পারেন, এই মানুষেরা হয়তো অতীত আঁকড়ে বাঁচছেন, কিংবা নতুন কোনো গান বা ট্রেন্ডের সাথে মানিয়ে নিতে পারছেন না।

একই গান বারবার শোনেন? আপনি কেমন মানুষ? লুপে গান শোনার কারণ জানলেন বিজ্ঞানীরা
একই গান বারবার শোনেন? আপনি কেমন মানুষ? লুপে গান শোনার কারণ জানলেন বিজ্ঞানীরা

নতুন এক গবেষণা জানাচ্ছে, পরিচিত গান লুপে শোনার এই অভ্যাস মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মনে একধরণের মানসিক স্থিতিশীলতা তৈরি করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। বর্তমান ২০২৬ সালের দ্রুত ও ব্যস্ত জীবনযাত্রার প্রেক্ষিতে মানুষের এই ‘মিউজিক রিপিট’ করার মানসিকতা ও তার পেছনের আসল বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।

গান আমাদের অবচেতন মনের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, তা আমরা সবাই জানি। তবে একই পরিচিত গান বারবার শোনার পেছনে মানুষের মস্তিষ্কের এক বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক মেকানিজম বা রণকৌশল কাজ করে। মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত গবেষণায় উঠে আসা প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক আরাম (Emotional Regulation)

গবেষকদের মতে, যখন আমরা কোনো অত্যন্ত পরিচিত গান শুনি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক জানে যে পরের লাইনে কোন সুর বা কোন শব্দটি আসতে চলেছে। এই ‘পূর্বাভাস’ বা প্রেডিক্টেবিলিটি (Predictability) মানুষের মস্তিষ্ককে একধরণের আরাম দেয়। যখন কোনো মানুষ অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা একাকীত্বের মধ্য দিয়ে যান, তখন নতুন কোনো গান শোনার মানসিক শক্তি তাঁর থাকে না। কারণ নতুন গান শোনার জন্য মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে হয়। সেই জায়গায় একটি চেনা পুরনো গান লুপে শুনলে তা মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ বাড়ায়, যা মুহূর্তে মন শান্ত করতে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২. স্থিতিশীলতার অনুভূতি ও মানসিক নিরাপত্তা (Sense of Stability)

পরিচিত গান বারবার শোনার সাথে নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতার সম্পর্ক গভীর, তবে তা নেতিবাচক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন তার জীবনের কোনো সুন্দর সময়ের (যেমন স্কুল-কলেজের দিন বা কোনো বিশেষ মুহূর্ত) গান বারবার শোনে, তখন সে আসলে নিজের অতীত অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এটি মানুষকে বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করার ইতিবাচক শক্তি জোগায়, অতীতে বন্দি করে না।

৪. গভীর মনোযোগ ও কাজের গতি বৃদ্ধি

অনেকে পড়াশোনা বা অফিসের কোনো জটিল কাজ করার সময় একই গান লুপে চালিয়ে রাখেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরিচিত সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজলে তা বাইরের কোলাহলকে ব্লক বা আটকে দিতে সাহায্য করে। যেহেতু গানটি চেনা, তাই এটি মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় না, বরং মস্তিষ্কের ‘হাইপার-ফোকাস’ অবস্থা সচল রাখে, যা কাজের উৎপাদনশীলতা বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

তাই পরের বার যখন হেডফোনে একই গান দশমবারের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক চালাবেন, তখন কোনো অপরাধবোধে ভুগবেন না। আপনার অবচেতন মন আসলে তার নিজের মতো করে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিচ্ছে। একই গান বারবার শোনা অতীতে আটকে থাকার লক্ষণ নয়, বরং এটি হলো মনের ক্লান্তি দূর করে নিজেকে আবার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার এক চমৎকার মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe