...
...
Next Story

পুরীর ইঁদুরের তাণ্ডবে কাহিল খোদ জগন্নাথ দেব! মারার প্রশ্নই নেই, তাই পট্টবস্ত্র-রথ বাঁচাতে অভিনব উদ্য়োগের ব্যবস্থা হচ্ছে

ইঁদুরের তাণ্ডব ঠেকাতে বিশ্ববিখ্যাত এই মন্দিরে কোনও ধরনের বিষ বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা একেবারেই নিষেধ, কারণ মন্দিরের ধর্মীয় বিধি ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের বিগ্রহ, তাঁদের পোশাক ও রথের কাঠ রক্ষায় কী করা যেতে পারে, ভেবে বার করেছে কর্তৃপক্ষ।

Published on: Sep 2, 2026, 17:20:43 IST
Advertisement

ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী তথা সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির। দ্বাদশ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক ধামে চতুর্ধামূর্তির বিগ্রহ ও গর্ভগৃহের সুরক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব সংকট। রত্নবেদীতে বিরাজমান মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, দেবী সুভদ্রা ও প্রভু বলভদ্রের পরিধেয় রেশমি পোশাক ও মূল্যবান কাঠের বিগ্রহ ইঁদুরের কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং স্টোররুমে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে চলায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে মন্দির সেবায়েত ও শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA)-এর মধ্যে।

পুরীর ইঁদুরের তাণ্ডবে কাহিল খোদ জগন্নাথ দেব! পট্টবস্ত্র-রথ বাঁচাতে অভিনব উদ্য়োগ (AI নির্মিত প্রতীকী ছবি)
পুরীর ইঁদুরের তাণ্ডবে কাহিল খোদ জগন্নাথ দেব! পট্টবস্ত্র-রথ বাঁচাতে অভিনব উদ্য়োগ (AI নির্মিত প্রতীকী ছবি)

ইঁদুরের তাণ্ডব ঠেকাতে বিশ্ববিখ্যাত এই মন্দিরে কোনও ধরনের বিষ বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা একেবারেই নিষেধ, কারণ মন্দিরের ধর্মীয় বিধি ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের বিগ্রহ, তাঁদের পোশাক ও রথের কাঠ রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও প্রথাগত উপায়ে ইঁদুর ধরার অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী কাঠের খাঁচা ও জোয়ার ছিটিয়ে বিশেষ ফাঁদ তৈরি করে ইঁদুর দমন করা হবে।

১. রত্নবেদী ও বিগ্রহের সুরক্ষা নিয়ে আশঙ্কা

পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্রীবিগ্রহরা নিমকাষ্ঠের তৈরি। তাঁদের অঙ্গরাগ, পোশাক এবং চারপাশের কাঠামো অত্যন্ত সংবেদনশীল:

  • পট্টবস্ত্র ও দামি অলংকারের ক্ষতি: দেব-দেবীদের পরানো পট্টবস্ত্র ও রেশমি শাড়ি ইঁদুর কেটে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে বলে সেবায়েতরা অভিযোগ করেছেন।
  • বিগ্রহের গায়ে ক্ষত: নিমের কাঠের তৈরি মূর্তির গায়ে ইঁদুরের আঁচড় ও কামড়ের চিহ্ন দেখা দেওয়ায় বিগ্রহের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গর্ভগৃহের অন্ধকার ও আর্দ্র পরিবেশ ইঁদুরের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল হয়ে উঠেছে।

২. বিষ প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা: কেন অন্য পদ্ধতি বেছে নেওয়া হলো?

পুরী মন্দিরের রত্নভাণ্ডার ও মহাপ্রভুর রথ নির্মাণের কাঠ যেখানে রাখা হয়, সেখানেও ইঁদুরের প্রবেশ বন্ধ করতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মন্দির প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • সেবায়েতদের একটি বিশেষ দল প্রতিদিন গর্ভগৃহ ও পরিচ্ছদ কক্ষ পর্যবেক্ষণ করবেন।
  • পরিবেশবান্ধব কাঠের খাঁচা তৈরি করতে স্থানীয় কারিগরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শ্রীক্ষেত্রের ঐতিহ্যময় স্থাপত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • ধামের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে এবং মহাপ্রভুর সেবায় কোনো ত্রুটি না রেখে এই ফাঁদ ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধে প্রথাগত কাঠ ও জোয়ারের আধার ব্যবহার করে ইঁদুর ধরার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সনাতন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় নিয়মের মর্যাদা রেখে শ্রীবিগ্রহের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাই এখন শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe