ডবল ইঞ্জিন সরকারের জোরে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে পুরুলিয়ার। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পুরুলিয়ার ছড়রায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হত। সেই সময় জ্বালানি নেওয়ার জন্য একাধিক বিমান এখানে অবতরণ করত। কিন্তু যুদ্ধের পর ধীরে ধীরে এয়ারস্ট্রিপটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে বিমানবন্দর তৈরির দাবি উঠলেও বাস্তবে কোনও কাজ এগোয়নি। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকারের আমলেও একাধিক সমীক্ষা ও পরিদর্শন হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
এবার পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাজ্য বাজেটে বিমানবন্দর নির্মাণের ঘোষণা হওয়ার পরই প্রকল্পের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত এবং জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ওএলএস বা অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি রেললাইন এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল আসার কথা রয়েছে। এছাড়া রেললাইনের কাছে অবস্থিত রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম বা ‘উড়ান’ প্রকল্পের অধীনে গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি প্রকল্পের জন্য উপলব্ধ রয়েছে। তবে রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সাংসদ।
{{/usCountry}}এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম বা ‘উড়ান’ প্রকল্পের অধীনে গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি প্রকল্পের জন্য উপলব্ধ রয়েছে। তবে রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সাংসদ।
{{/usCountry}}প্রকল্প রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১১০০ মিটার দীর্ঘ ওয়ান-বি শ্রেণির রানওয়ে তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে সেটিকে ১৭০০ মিটার দীর্ঘ টু-সি শ্রেণির রানওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। রানওয়ের পাশাপাশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন, দমকল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, নিরাপত্তা পরিকাঠামো, ওয়াচ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ জলাধার এবং বম্ব কুলিং পিট-সহ আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত কংক্রিটের রানওয়েটি এখন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত। পণ্যবাহী লরির চলাচলের কারণে এর আরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে নতুন করে রানওয়ে নির্মাণ করতে হবে। একসময় এই জমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে ছিল। পরে তা রাজ্যের হাতে হস্তান্তর হলেও বছরের পর বছর প্রকল্পটি এগোয়নি।
এবার নতুন উদ্যোগে ছড়রার পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপকে আধুনিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপথে যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি পর্যটন, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।