...
...
Next Story

Quote of the day: ‘জেগে ওঠো, সচেতন হও’, কেন বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ? আজকের দিনে আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক এই বাণী

উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত। এই কথাটি বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। কেন আজকের দিনে এই কথাটি আরও বেশি করে দামি? জেনে নিন।

Published on: Apr 2, 2026, 09:48:24 IST
Advertisement

স্বামী বিবেকানন্দ কেবল একজন সন্ন্যাসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের নবজাগরণের অগ্রদূত। তাঁর প্রতিটি বাণী আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে। তাঁর অসংখ্য অমর উক্তির মধ্যে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উক্তি হলো— ‘জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।’ (মূল সংস্কৃতে: উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত)।

‘জেগে ওঠো, সচেতন হও’, কেন বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ? আজ এই কথা আরও বেশি দামি
‘জেগে ওঠো, সচেতন হও’, কেন বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ? আজ এই কথা আরও বেশি দামি

স্বামী বিবেকানন্দ যখন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ করেন, তখন ভারত ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ এবং এক গভীর হীনম্মন্যতায় নিমজ্জিত। ভারতীয় যুবসমাজ তখন তাদের নিজেদের শক্তি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিবেকানন্দ কাঠোপনিষদের একটি শ্লোক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই মহান বাণীটি প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং যুবশক্তির উত্থানের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।

উক্তির গভীর অর্থ: জেগে ওঠার প্রকৃত স্বরূপ

বিবেকানন্দ যখন 'জেগে ওঠা'র কথা বলেন, তখন তিনি কেবল ঘুম থেকে ওঠার কথা বোঝাননি। তাঁর দৃষ্টিতে 'জাগরণ' হলো আত্মিক ও মানসিক সচেতনতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের ভেতরে অনন্ত শক্তি ও সম্ভাবনা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। মায়া ও অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে মানুষ নিজেকে দুর্বল মনে করে। তাই বিবেকানন্দের এই আহ্বান ছিল— নিজের জড়তা ত্যাগ করে নিজের ভেতরের দেবত্বকে চেনা। তিনি বলতেন, ‘তুমি নিজেকে যা ভাববে, তুমি তাই হবে। যদি নিজেকে দুর্বল ভাবো, তবে তুমি দুর্বল হবে; আর যদি নিজেকে শক্তিশালী ভাবো, তবে তুমি শক্তিশালী হবে।’

কোন প্রসঙ্গে এই আহ্বান?

তিনি দেখেছিলেন, এদেশের মানুষ তখন ভাগ্যবাদী এবং অলস হয়ে পড়েছে। তারা সবকিছুর জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করছে। যুবকদের রক্তে দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ ফিরিয়ে আনতেই তিনি কঠোপনিষদের সেই অমর শ্লোক— ‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত’— আধুনিক সময়ের উপযোগী করে তুলে ধরেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন এক যুবসমাজ গঠন করা, যাদের ‘লোহার মতো পেশি এবং ইস্পাতের মতো স্নায়ু’ থাকবে।

লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রেরণা

বিবেকানন্দের উক্তির দ্বিতীয় অংশটি হলো— ‘লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।’ এটি আমাদের কর্মস্পৃহা ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক যুগে আমাদের মন খুব সহজেই বিচলিত হয়। একবার ব্যর্থ হলেই আমরা হাল ছেড়ে দিই। বিবেকানন্দ শিখিয়েছেন যে, পথ যতই কণ্টকাকীর্ণ হোক না কেন, যদি লক্ষ্যের প্রতি একাগ্রতা থাকে, তবে সফলতা অনিবার্য। তিনি বলতেন, ‘একটি ধারণা নাও। সেই ধারণাটিকে তোমার জীবন বানিয়ে ফেলো— সেটির কথা ভাবো, সেটির স্বপ্ন দেখো এবং সেটির ওপর ভিত্তি করেই বেঁচে থাকো।’

বর্তমান সময়ে এই উক্তির প্রাসঙ্গিকতা

২০২৬ সালের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে বিবেকানন্দের এই উক্তি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। আজকের তরুণ প্রজন্ম যখন মানসিক অবসাদ বা লক্ষ্যহীনতায় ভোগে, তখন ‘জেগে ওঠো’ এই বাণীটি তাদের নতুন করে লড়াই করার শক্তি দেয়। এটি কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা বলে না, বরং পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিটি স্তরে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ডাক দেয়।

স্বামী বিবেকানন্দের এই মহান উক্তি কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়, এটি একটি জীবন্ত দর্শন। এটি আমাদের শেখায় যে মানুষের পরাজয় ঘটে তখন নয় যখন সে হেরে যায়, বরং তখন যখন সে চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয়। লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে থেমে না যাওয়ার এই মন্ত্রই পারে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সব অন্ধকার দূর করতে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe