New Exam Rules: সম্প্রতি নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে দেশ। এবার কী দুনিয়ায় নতুন পথ চলা শুরু হবে? এই দুনিয়ায় একেবারে আমূল বদলে যাবে পরীক্ষার ধারা। কিন্তু কীভাবে? নতুন দু্নিয়ায় প্রশ্নপত্র আগে থেকে ছাপা হবে না। প্রশ্ন তৈরি হবে পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। সকাল ৯ টায় পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে সকাল ৬টায় তৈরি হবে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র। কিছু পরীক্ষায় ছাপানো প্রশ্ন থাকবেই না। কিছু পরীক্ষায় ছাপানো প্রশ্ন দেওয়া হবে। তবে সেটাও তৈরি হবে পরীক্ষার দিন ভোরবেলা।

এবার প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ বা পেপার সেটিং কমিটির দরকার হবে না। কোশ্চেন কোয়ান্টাম বলে প্রশ্নভাণ্ডার থেকে পরীক্ষার দিন চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। সেই কাজের ভার কার উপর থাকবে? ওই যে বললাম কোনও কমিটি বা বিশেষজ্ঞের দরকারই হবে না। চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) উপর। কয়েক লক্ষ প্রশ্নের মধ্যে থেকে ওই দিনের জন্য প্রশ্নপত্র বেছে নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে উত্তাল বিক্ষোভ, রাস্তা আঁকড়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা – এসব তো কয়েকদিন আগেকার ঘটনা। সেই আন্দোলন থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) উত্থান। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
তবে কেন্দ্র ব্যাপারটা সেখানেই ছেড়ে দেয়নি। সেই সময় কেন্দ্র বুঝেছিল, সর্বভারতীয় বা রাজ্যস্তরে চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। এবং সত্যি বলতে যত যাই করা হোক, প্রশ্নফাঁস যে হবে না এটা নিশ্চিত করা কঠিন। হয়তো অসম্ভবও। আগে যে সব পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে, সেখানে প্রেসের কর্মী বা কোচিং সেন্টারগুলো কলকাঠি নেড়েছে। নিটের ক্ষেত্রে একেবারে অভাবনীয় ঘটনা। যাঁরা প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে, তাঁদের একাংশ-দের হাত দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এটা কীভাবে আটকানো যাবে? নিটের প্রশ্নফাঁস এবং দেশজোড়া বিক্ষোভের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, নিটের মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলো নিয়ে নতুন ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন। প্রয়োজন পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন। ইনফোসিসের ফাউন্ডার মেম্বার নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটির উপর সেই ভার পড়েছে। এই মুহূর্তে নন্দন নিলেকানি ইন্ডিয়া এআই মিশনের প্রধানও।
এই পরিস্থিতিতে নন্দন নিলেকানির বক্তব্য, পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের রোডম্যাপ অনেকটাই তৈরি। চলতি বছরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট দেবে কমিটি। আপনারা পরীক্ষা ব্যবস্থায় কীরকম সংস্কারের কথা ভাবছেন? নিলেকানি বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরিতে হিউম্যান টাচ যতদূর সম্ভব কমাতে হবে। তা হলেই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রোখা সম্ভব। আগে থেকে প্রশ্ন তৈরিও দরকার নেই। প্রশ্নকর্তারা দু-সপ্তাহ ধরে যেটা করবেন, এআই ৩০ সেকেন্ডে সেই কাজটাই করবে দেবে। এবং আরও ভালভাবে করবে। আমার মনে হয়, কয়েক লক্ষ প্রশ্ন নিয়ে একটা তথ্যভান্ডার তৈরি রাখলেই কাজ হয়ে যাবে। এআই তার মধ্যে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বেছে নেবে। এবং সেটা হবে প্রশ্নপত্র তৈরি হওয়ার ৪-৫ ঘণ্টা আগে। প্রশ্নপত্র তৈরির পর দ্রুত তা ছেপে হলে আসবে এবং সেখান থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছবে। এতে মানুষের এক ছাপা ছাড়া মানুষের খুব একটা ভূমিকা থাকছে না। তাই প্রশ্নফাঁস হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। তাঁর কথায়, 'পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এই পদক্ষেপটা আমাদের নিতেই হবে।' এক্ষেত্রে কমন অ্যাডমিশান টেষ্ট বা ক্যাটের উদাহরণ টেনেছেন নিলেকানি। তিনি বলেছেন, 'আগে খাতায় ক্যাট হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে অনলাইনে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনে পড়তে যাওয়ার জন্য যে সব পরীক্ষা দিতে হয়, যেমন স্যাট, জিম্যাট বা টোয়েফল- সবটাই অনলাইনে। আমরা শুধু অনলাইনের কথা ভাবছি না। একটা ফুলপ্রুফ সিস্টেম তৈরির কথা ভাবছি। আর সেটা করতে হলে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের থেকে ভাল হাতিয়ার আর কিছু হয় না।'
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতে নন্দন নিলেকানির বক্তব্য, পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কারের রোডম্যাপ অনেকটাই তৈরি। চলতি বছরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট দেবে কমিটি। আপনারা পরীক্ষা ব্যবস্থায় কীরকম সংস্কারের কথা ভাবছেন? নিলেকানি বলেন, প্রশ্নপত্র তৈরিতে হিউম্যান টাচ যতদূর সম্ভব কমাতে হবে। তা হলেই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রোখা সম্ভব। আগে থেকে প্রশ্ন তৈরিও দরকার নেই। প্রশ্নকর্তারা দু-সপ্তাহ ধরে যেটা করবেন, এআই ৩০ সেকেন্ডে সেই কাজটাই করবে দেবে। এবং আরও ভালভাবে করবে। আমার মনে হয়, কয়েক লক্ষ প্রশ্ন নিয়ে একটা তথ্যভান্ডার তৈরি রাখলেই কাজ হয়ে যাবে। এআই তার মধ্যে নির্দিষ্ট প্রশ্ন বেছে নেবে। এবং সেটা হবে প্রশ্নপত্র তৈরি হওয়ার ৪-৫ ঘণ্টা আগে। প্রশ্নপত্র তৈরির পর দ্রুত তা ছেপে হলে আসবে এবং সেখান থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছবে। এতে মানুষের এক ছাপা ছাড়া মানুষের খুব একটা ভূমিকা থাকছে না। তাই প্রশ্নফাঁস হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। তাঁর কথায়, 'পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এই পদক্ষেপটা আমাদের নিতেই হবে।' এক্ষেত্রে কমন অ্যাডমিশান টেষ্ট বা ক্যাটের উদাহরণ টেনেছেন নিলেকানি। তিনি বলেছেন, 'আগে খাতায় ক্যাট হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে অনলাইনে হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনে পড়তে যাওয়ার জন্য যে সব পরীক্ষা দিতে হয়, যেমন স্যাট, জিম্যাট বা টোয়েফল- সবটাই অনলাইনে। আমরা শুধু অনলাইনের কথা ভাবছি না। একটা ফুলপ্রুফ সিস্টেম তৈরির কথা ভাবছি। আর সেটা করতে হলে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের থেকে ভাল হাতিয়ার আর কিছু হয় না।'
{{/usCountry}}নন্দন নিলেকানির এই বক্তব্যে রীতিমতো জল্পনা চলছে। আইআইটি, আইআইএম থেকে দেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখনই দু-ভাগ। অনেকেরই প্রশ্ন, এআই না হয় প্রশ্ন তৈরি করবে, কিন্তু এআইয়ের উপরও নজরদারি, সেটা হবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।