...
...
Next Story

UP bonded labour case: 'ভেঙে পড়া অর্থনীতির...,' মুজফফরনগরে উদ্ধার ১২ দাস শ্রমিক, কঠোর শাস্তির দাবি রাহুলের

UP bonded labour case: সোমবার উত্তরপ্রদেশের শ্রম দফতর, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দলের চালানো এক অভিযানে কাগজের প্লেট তৈরির এক কারখানা থেকে ১২ জন দাস শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। মুজফফরনগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে ওই কারখানায় কয়েকজনকে কাজ দেওয়া হয়।

Published on: Jun 25, 2026, 12:42:16 IST
Advertisement

UP bonded labour case: উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের দাস শ্রমিক উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ ও 'মানব মর্যাদার ওপর এক চরম আঘাত' বলে অভিহিত করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর সুরেই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী

যোগীরাজ্যের এই ঘটনা প্রসঙ্গে বুধবার রাহুল গান্ধী এক এক্স বার্তায় বলেন, 'মুজফফরনগরের বন্ধনশ্রমের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হতো, বর্শা দিয়ে আঘাত করা হতো, চাবুক মারা হতো এবং গবাদি পশুর খাবার খাওয়ানো হতো। যে ঘটনা মানব মর্যাদার ওপর এক চরম আঘাত- এই ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি প্রাপ্য।' কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, 'এই প্রশ্নটিও করা জরুরি যে, কী কারণে শ্রমিকরা এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকা পড়তে বাধ্য হয়? যখন চাকরি চলে যায়, আয় বন্ধ হয়ে যায় এবং এমএনআরইজিএ ও শ্রম আইনের মতো সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণীর মানুষের জন্য তৈরি করা সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তখন হতাশা বাড়ে। যাদের অন্য কোনও বিকল্প বা সুরক্ষা নেই, তারা এই ধরনের শোষণের সহজ শিকারে পরিণত হয়। এটি কোনও সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয়-এটি একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতির ধ্বংসাবশেষ।'

সোমবার উত্তরপ্রদেশের শ্রম দফতর, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দলের চালানো এক অভিযানে কাগজের প্লেট তৈরির এক কারখানা থেকে ১২ জন দাস শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। মুজফফরনগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে ওই কারখানায় কয়েকজনকে কাজ দেওয়া হয়। উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন রাজ্য থেকে বেশ কয়েকজন যুবক ওই কারখানায় যোগ দেয়। যদিও কর্মীদের অভিযোগ, কাজে যোগ দেবার পরেই তাদের মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। তাদের খাবার দিতে অস্বীকার করা হয় এবং মারধোর করা হয়। এই শ্রমিকরা যাতে পালাতে না পারে তাই তাদের পাহারায় দুটি পিট বুল কুকুরকে রেখে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের অনেকের শরীরেই ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।

এসপি রুর‍্যাল শ্রী অক্ষয় সঞ্জয় মহাধিক জানিয়েছেন, যে দাস শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের ঝাড়খন্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রাজ্য এমনকী নেপাল থেকে আনা হয়েছিল। এরপর কমপক্ষে দু’বছর শ্রমিকদের ওই কারখানায় দাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে শিবম ত্যাগী এবং প্রদীপ বালিয়ান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও লাঠি, চাবুক-সহ শ্রমিকদের ওপর শারীরিক অত্যাচার করার একাধিক জিনিস পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এদের মধ্যে একজন শ্রমিক কোনওরকমে ওই কারখানা থেকে পালাতে সক্ষম হয় এবং পুলিশে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি জানায়। এরপরেই শ্রম দফতর এবং প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ওই কারখানায় অভিযান চালায় এবং ১২ জন দাস শ্রমিককে উদ্ধার করে। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নাম যথাক্রমে রামু, বিক্রম, নারায়ণ, সীতারাম, সন্তোষ, শিবম জাটভ, জগদীশ, রাজহংস, শাহিল, রঞ্জিত পাসোয়ান, দিলশাদ, উজ্জ্বল এবং সোনু চৌহান। পুলিশের কাছে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছে যে দীর্ঘ এই সময়ে কর্মরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারা গেছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe