...
...
Next Story

যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ? CJP নেতারা জেলে যেতেই পাশে রাহুল গান্ধী

অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ বার প্রকাশ্যে সিজেপি নেতাদের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সমাজমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললেন, দেশের মাটিতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ?

Published on: Oct 14, 2026, 14:14:42 IST
Advertisement

হাতে জাতীয় পতাকা। স্লোগান উঠছে, প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দিতে মরিয়া বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু সেই প্রতিবাদেই জড়াল পুলিশের সঙ্গে সংঘাত। শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ বার প্রকাশ্যে সিজেপি নেতাদের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সমাজমাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুললেন, দেশের মাটিতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ? তরুণদের প্রতিবাদ দমনে জেলে পাঠানোকে ‘কাপুরুষতা’ বলেও আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা।

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১৪

CJP নেতারা জেলে যেতেই পাশে রাহুল গান্ধী (AICC)
CJP নেতারা জেলে যেতেই পাশে রাহুল গান্ধী (AICC)

ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদের অন্যতম কেন্দ্র এই এলাকা। কিন্তু সোমবার থেকে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। তার পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।

মঙ্গলবার সকালে সিজেপি-র কয়েক জন সদস্য ব্যারিকেড ও গেট টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি স্লোগান দেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় মোট ১৪ জনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং আগে দেওয়া বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, এর আগে ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করে ছাড়া পান তাঁরা। মঙ্গলবার ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোয় সেই শর্ত ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার অশুতোষ ও সৌরভকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

‘ভিন্ন পতাকা নয়, লক্ষ্য এক’

একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, যুবক, সাংবাদিক এবং ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনকে একটি বৃহত্তর প্রতিবাদের অংশ হিসাবে তুলে ধরেছেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার রক্ষার দাবি এক। যন্তর মন্তর দেশের মানুষের, সেই প্রতিবাদস্থল আবার ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

রাহুলের এই সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর বক্তব্য, অশুতোষ ও সৌরভের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তিনি কংগ্রেস নেতার কাছে কৃতজ্ঞ।

পাশে কেজরীওয়াল, অভিষেকও

শুধু রাহুল নন, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারির সমালোচনা করেছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালও। নিজের দেশের পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ হয়, তা হলে বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য ভারতীয়দের গ্রেফতার করার ঘটনায় কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন এবং উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরেও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদের আবহে এই ঘটনা বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাহার, পুলিশের অভিযোগ এবং আদালতের হেফাজতের নির্দেশ—এই সব কিছুকে ঘিরে আইনি বিতর্কও বাড়ছে। সিজেপি নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুলের বার্তা, প্রতিবাদের অধিকারকে দমন করা যাবে না।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks