দু’টি বিষয় প্রবল অপছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একটি হল মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ এবং দ্বিতীয়টি গরিবের অধিকার। মনরেগা প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে কেন্দ্রের 'বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)' বা 'জিরামজি' করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে অপমান।

মঙ্গলবার এক্স হ্যাণ্ডেলে দীর্ঘ পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুটি বিষয়ের প্রতি গভীর অনীহা রয়েছে- এক, মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাধারা ও দুই, গরিব মানুষের অধিকার। তাঁর অভিযোগ, এই কারণেই গত এক দশক ধরে এমজিএনআরইজিএ-কে দুর্বল করার ধারাবাহিক চেষ্টা চালানো হয়েছে ও এবার একেবারে মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ লিখেছেন, 'মনরেগা হল মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজ আদর্শের জীবন্ত প্রতিরূপ। এটি লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ ভারতীয়ের জন্য জীবনরেখা। কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুরক্ষা কবজ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবুও এই প্রকল্প বরাবরই প্রধানমন্ত্রীকে অস্থির করেছে।' রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, 'কেন্দ্রীয় সরকার গত দশ বছর ধরে পরিকল্পিত ভাবে একে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই প্রকল্প মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী।'
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, নতুন বিলের মাধ্যমে এমজিএনআরইজিএ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে সরকার। বাজেট, নীতি ও নিয়ম সবকিছুই কেন্দ্র ঠিক করবে, রাজ্যগুলিকে বহন করতে হবে ৪০ শতাংশ খরচ। এমনকী তহবিল শেষ হয়ে গেলে বা ফসল কাটার মরশুমে শ্রমিকদের মাসের পর মাস কাজ থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। রাহুলের কথায়, 'প্রধানমন্ত্রী মনরেগার উপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ চাইছেন। এবার থেকে বাজেট, প্রকল্প পরিকল্পনা এবং নিয়ম কেন্দ্রই নির্ধারিত করবে। রাজ্যগুলিকে ৪০ শতাংশ খরচ বহন করতে বাধ্য করা হবে। এছাড়াও তহবিল ফুরিয়ে গেলে, ফসল কাটার মরশুমে শ্রমিকদের মাসের পর মাস কাজ থেকে বঞ্চিত করা হবে।' কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘এখন মোদীজি এমজিএনআরইজিএ-কে কেন্দ্রীভূত করে নিয়ন্ত্রণের এক হাতিয়ারে পরিণত করতে চান।' রাহুলের আর অভিযোগ, ব্যাপক পরিমাণে বেকারত্বের মাধ্যমে ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার পরে নরেন্দ্র মোদী সরকার এখন দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের নিরাপদ জীবিকাকে লক্ষ্য করেছে। কংগ্রেস সংসদ থেকে রাস্তা সর্বত্র এই ‘গণবিরোধী বিল’-এর প্রতিবাদ করবে।