প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড ঘিরে ক্রমেই পারদ চড়ছে রাজধানী দিল্লিতে। সিজেপির প্রতিবাদ বিক্ষোভের দিনের পরদিনই আজ মঙ্গলবার, কংগ্রেসের তরফে এক ধরনার আয়োজন করা হয়। আর সেই ধরনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে। সেখানেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবও। এদিকে, বিরোধী শিবিরের এই বিক্ষোভের মাঝে আচমকাই সেখানে পৌঁছন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় রাহুল গান্ধীকে। এর খানিকক্ষণ পরই দিল্লি পুলিশ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে ওই ধরনা সরিয়ে দিতে উদ্যত হয়। সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাহুলদের।

সূত্র উল্লেখ করে নিউজ ১৮র প্রতিবেদন বলছে, রাহুলদের ধরনাস্থলে গিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন,' সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন। এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। এলাকাটি (রাহুলদের ধরনাস্থলের) সংবেদনশীল হওয়ায়, দীর্ঘস্থায়ী কোনও বিক্ষোভ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।' জানা যাচ্ছিল, রাহুল গান্ধীরা রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনা দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন। এদিনের ধরনাস্থলে কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতানেত্রীরা ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অনেকে। এদিকে, সন্ধ্যা নামতেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের উঠিয়ে দেয় পুলিশ। সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবদের।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা গান্ধী যখন রাস্তায় বসে পড়ে সেখান থেকে সরতে অস্বীকার করেন, তখন অন্তত ১০ জন পুলিশকর্মী তাঁকে ঘিরে ফেলেন, দাবি করছে এনডিটিভির রিপোর্ট। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে, এক পোস্টে সকলকে তাঁর ধরনায় যোগ দিতে আহ্বান জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানেই প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী মনে করেন, কোনো জবাব না দিয়েই এবং কোনও পরিণতির মুখোমুখি না হয়েই তিনি পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তা সম্ভব নয়, অন্তত এবার নয়। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে—যারা মনে করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য,আহ্বান জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আয়োজিত ধর্নায় আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যাবে না।’