ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করার বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এ বার নিজের আন্দোলনের কৌশল বোঝাতে হিন্দু দেবতা শিবের ‘তাণ্ডব’ নৃত্যের উদাহরণ টানলেন তিনি। রাহুলের কথায়, “এটা তাণ্ডব। ভগবান শিবের নাচ। এর কোনও পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।” তাঁর দাবি, এই আন্দোলন কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে আটকে নেই। আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল হচ্ছে, কাল অন্য কোনও কর্মসূচি হতে পারে। যে কেউ এই প্রতিবাদে যোগ দিতে পারেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিলের আগে এই মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল জানান, আন্দোলনের কৌশল নিয়ে তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা তাঁকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাহুলের মতে, এই প্রতিবাদের ধরন আলাদা। তাঁর কথায়, “আমার বোন বলছে, একটা পরিকল্পনা করা উচিত। আমি বলেছি, তুমি বিষয়টা বুঝতে পারছ না। এটা তাণ্ডব।” তাঁর ব্যাখ্যা, আন্দোলনকে আগে থেকে নির্দিষ্ট ছকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। মানুষের ক্ষোভ এবং গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদ থেকেই এই প্রতিবাদ এগিয়ে চলেছে।
রাহুল আরও বলেন, “আমরা রাস্তার জন্য লড়াই করছি না। আমরা ভারতের মানুষের মন ও হৃদয় জয় করতে চাই।” তাঁর দাবি, দেশের মানুষকে বোঝানোই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করেন তিনি। তাই শুধু বিরোধী দলগুলির কর্মসূচি হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষের আন্দোলন হিসেবেই বিষয়টিকে দেখতে চান কংগ্রেস নেতা।
আকাশবাণী ভবনের সামনে কী হয়েছিল?
এর আগে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিল। তার পরেই আন্দোলনের ধরন বদলে যায়। রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা আকাশবাণী ভবনের চত্বরে বসে পড়েন। রাত পর্যন্ত চলে সেই অবস্থান। রাহুলের বক্তব্য, ওই কর্মসূচিও আগে থেকে পরিকল্পনা করে করা হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আন্দোলনের শক্তি সেখানেই। পরিস্থিতি বদলালে কর্মসূচিও বদলাবে।
{{/usCountry}}এর আগে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মিছিল পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিল। তার পরেই আন্দোলনের ধরন বদলে যায়। রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা আকাশবাণী ভবনের চত্বরে বসে পড়েন। রাত পর্যন্ত চলে সেই অবস্থান। রাহুলের বক্তব্য, ওই কর্মসূচিও আগে থেকে পরিকল্পনা করে করা হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আন্দোলনের শক্তি সেখানেই। পরিস্থিতি বদলালে কর্মসূচিও বদলাবে।
{{/usCountry}}নিজের বক্তব্যে ভারত জোড়ো যাত্রার প্রসঙ্গও তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, সেই যাত্রায় কোনও একজন নেতা সামনে থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেননি। বরং বিভিন্ন শ্রেণি, ভাষা ও অঞ্চলের মানুষ একসঙ্গে হেঁটেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকেও শিবের তাণ্ডবের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের মূল শক্তি মানুষের অংশগ্রহণ।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক
এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জানাতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই অভিযোগের দায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর চাপিয়ে তাঁর পদত্যাগ চাইছেন তাঁরা। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিক ভাবে এ নিয়ে আলাদা আলোচনা সম্ভব নয়। আইনি পথে আবেদন জানালে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
রাহুল অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, শুধু সুপ্রিম কোর্টে মিছিল করেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে না। তাঁর বক্তব্য, আজ এই কর্মসূচি, কাল অন্য কিছু হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানাতে আন্দোলন চলবে। ফলে সোমবারের মিছিলের পর বিরোধীরা কোন পথে এগোন, এখন নজর সেদিকেই।